তীব্র গরমে ঝুঁকিতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা, দুপুর ১২টায় ছুটির দাবি
চলমান তাপপ্রবাহে ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করা এক কোটিরও বেশি কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থী। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই শিফটে তারা বিদ্যালয়ে ক্লাস করছে। এতে বিদ্যালয়ে যেতে-আসতে এবং ক্লাস করতে গরমে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসের এ সময়সূচি পরিবর্তন করে দুপুর ১২টার মধ্যে ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা বৈষম্য নিরসন ফোরাম’। একই সঙ্গে সংগঠনটি সপ্তাহের শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিষয়টিও বিবেচনার অনুরোধ করেছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসব দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির সদস্যসচিব সামছুদ্দিন বাবুল গণমাধ্যমে এ বিজ্ঞপ্তি পাঠান।
শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত প্রাথমিক শিক্ষা বৈষম্য নিরসন ফোরাম নামে নতুন এ সংগঠনটি বলছে, সকাল ৭টায় গরমের তাপমাত্রা সহনীয় থাকে। বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে সাড়ে ৯টার মধ্যে শেষ করা হলে তাপমাত্রার তীব্রতা তেমন পোহাতে হবে না।
আর তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুপুর ১২টার মধ্যে ক্লাস শেষ হলে শুধু দুপুরের গরমে তাদের যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে, যা এখনকার সময়সূচির চেয়ে তুলনামূলক ভালো হবে।
আরও পড়ুন
গরম কবে কমতে পারে, জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর
তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি উঠতে পারে, এমন পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া অধিদপ্তর
উচ্চ তাপপ্রবাহ নিয়ে কোনো সতর্ক বার্তা দেয়নি ফায়ার সার্ভিস
স্মারকলিপিতে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, বর্তমানে সারাদেশে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পর্যুদস্ত। শিশুশিক্ষার্থীদের সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে যেতে তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হতে হয়। অন্যদিকে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী অবস্থানের ফলে তাপমাত্রা অত্যধিক অনুভূত হয়ে থাকে।
এতে আরও বলা হয়, গরমের সময় আমাদের দেশে সাধারণত লোডশেডিং বেশি হয়ে থাকে। অনেকক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুদের গরমে ঘামে জামাকাপড় ভিজে একাকার হয়ে যায়। পাঠের কার্যক্রমের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কসাই মনোবৃত্তির মানুষ হিসেবে ধারণা পোষণ করে থাকেন। শিক্ষকরা যে সরকারের নির্দেশ ছাড়া কিছুই করার নেই, বিষয়টি তাদের উপলব্ধিতে থাকার কথা নয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুরা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ মাথায় নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করে। অন্যদিকে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সারাদিন গরমে দুঃসহ যন্ত্রণার কবলের মাঝে বিকেল ৪টার সময় তাপ মাথায় নিয়ে বাড়ি যেতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে। এমন পরিস্থিতিতে সময়সূচি পরিবর্তন করা জরুরি।
স্মারকলিপিতে শনিবারের ছুটি বহালের দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, শিখন ঘাটতি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখন ঘাটতি অতি নগণ্য। তাদের শিখন ঘাটতির অন্যতম কারণ অভিভাবকদের দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও বাড়িতে দেখভালের অভাব। গরমের এ তীব্রতায় প্রাথমিকের শিখন ঘাটতি পূরণের নামে শনিবার খোলা রাখা চরম বৈষম্য।
‘পাশাপাশি এককভাবে শুধু শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার ফলে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও থাকে নগণ্য। এতে শিখন ঘাটতি পূরণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের এককভাবে প্রাথমিক শিক্ষার শিখন ঘাটতি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের আহ্বায়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান, সদস্যসচিব মো. সামছুদ্দিন বাবুল, যুগ্ম-সদস্যসচিব সুবল চন্দ্র পাল, সাংগঠনিক সচিব মো. আব্দুল কাদের প্রমুখ।
স্মারকলিপির অনুলিপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসীর দপ্তরেও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা বৈষম্য নিরসন ফোরাম।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্মারকলিপিটি আমি এখনো দেখিনি। যদি তারা এটা দিয়ে থাকেন, তাহলে বিবেচনা করে দেখা হবে।’
এএএইচ/ইএ