বুয়েটে ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক আজীবন বহিস্কার
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনককে আজীবন বহিস্কার এবং বাকিদের সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরো দু’জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার করা হয়েছে।
মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়ত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের জের ধরে শিক্ষককের উপর হামলার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বহিস্কৃত বাকীরা হলেন- প্রতীক দত্ত। অন্যজনের নাম জানা যায়নি।
জানা যায়, গত ১৮ ও ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায় তাদের বিরুদ্ধে বহিস্কাররের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে সোমবার রাতে বহিস্কারের বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে তাদেরকে জানানো হয়।
বুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. হাসিব চৌধুরী জানান, ১৮ ও ১৯ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়ে। সোমবার রাতে চিঠির মাধ্যমে বহিস্কারের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়।
বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনক জানান, এটা খুবই অন্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করবো। আর প্রশাসনকে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য সাতদিনের আল্টিমেটাম দেব।
বুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. খালেদা ইকরাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার কারণে তাদেরকে বহিস্কার করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারী জেনারেল মো: কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বুয়েট শিক্ষক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। এরই জের ধরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই শিক্ষককে তার অফিসে মারধর করে ও শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ নিয়ে বুয়েট শিক্ষক সমিতি ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও অবস্থান নেয়।
এমএইচ/এএইচ/এমএস