জাগো নিউজ দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ুক: আলমাস কবীর
জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজের এক যুগ পূর্তিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সংবাদমাধ্যমের একটি বড় দায়িত্ব জনসংশ্লিষ্ট সংবাদ পৌঁছে দেওয়া। জাগো নিউজ এই কাজটি গত এক যুগ ধরে করে যাচ্ছে, এজন্য আমি অনেক অনেক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই যুগপূর্তিতে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমার শুভেচ্ছা হচ্ছে- জাগো নিউজ আরও অনেক দূর ছড়িয়ে পড়ুক। শুধু বাংলাদেশ কেন, বাংলাদেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ুক।
রোববার (১০ মে) বিকেলে জাগো নিউজ কার্যালয়ে এসে সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান সৈয়দ আলমাস কবীর। এসময় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, দেশের আইটি খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও এখনো বড় চ্যালেঞ্জ দক্ষ জনশক্তির অভাব। দেশে মেধাবী মানুষের অভাব নেই, তবে সেই মেধাকে দক্ষতায় রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা আমরা অনেক বছর ধরে বলে আসছি। কিন্তু বাস্তবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা।

অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার— দুই ধরনের অবকাঠামো প্রয়োজন। হার্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মধ্যে রয়েছে সারাদেশে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, উন্নত ফাইভ-জি সেবা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যেন ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
নীতিগত স্থিতিশীলতার অভাবকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় নীতিমালায় ধারাবাহিকতা থাকে না। এক বছর যে নীতি নেওয়া হয়, পরের বছর সেটি পরিবর্তিত হয়ে যায়। এতে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারান। যদি সরকার ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য স্থিতিশীল নীতির নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে।
ইন্টারনেটের মূল্য বৈষম্য প্রসঙ্গে সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, রাজধানী ঢাকার তুলনায় দেশের দূরবর্তী অঞ্চলে একই মানের ইন্টারনেট পেতে অনেক বেশি খরচ হয়। এর অন্যতম কারণ ট্রান্সমিশন কস্ট অত্যন্ত বেশি। শুধু ব্যান্ডউইথের দাম কমালেই হবে না, ট্রান্সমিশন কস্ট এবং মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমাতে হবে। তাহলেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট পৌঁছানো সম্ভব হবে।
আইসিটি খাতের উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, সফটওয়্যার ও আইটি সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল সম্পদ হচ্ছে মেধা, কিন্তু ব্যাংকগুলো এখনো প্রচলিত জামানত ছাড়া ঋণ দিতে অনাগ্রহী।
তিনি বলেন, সরকার চাইলে সফটওয়্যার বা সোর্স কোডকে সম্পদ হিসেবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সরকারিভাবে আংশিক গ্যারান্টি দিলে কোল্যাটারাল-ফ্রি ঋণও সম্ভব।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে বেসিসের সাবেক এই সভাপতি বলেন, গণমাধ্যম যদি ধারাবাহিকভাবে এসব বিষয়ে প্রতিবেদন, আলোচনা ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে, তাহলে নীতিনির্ধারকরা বিষয়গুলোর গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করবেন।
ইএইচটি/ইএ