শিক্ষাখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, অ্যাক্টিভিস্ট এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বাল্যবিবাহ রোধে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বাল্য বিবাহ রোধে আয়োজিত এক সংলাপে শিক্ষাখাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাল্যবিবাহ রোধে শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। মাধ্যমিকে মেয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে বাল্য বিবাহের শিকার না হয় সেজন্যে বিশেষ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিশেষ বরাদ্দও প্রয়োজন। তবে এই বরাদ্দের জন্য কেবল সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলেই হবেনা। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’
জরুল ইসলাম খান বলেন, বাল্য বিবাহ বন্ধের প্রথম শর্ত শিক্ষা। মেয়েরা মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করলে তারা উচ্চ মাধ্যমিকে যেয়ে স্থিতিশীল হয় এবং যেকোনো মূল্যে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করতে চায়। কারণ মাধ্যমিকে থাকার সময়েই মেয়েরা বাল্য বিবাহের শিকার হয়। কিন্তু ছেলেরা মাধ্যমিক শেষ করে উচ্চ মাধ্যমিকে যেয়ে ঝরে পরে। কারণ তখন তারা একটা কোন কাজ খুঁজে নিয়ে সংসার শুরু করে। কাজেই মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় নিশ্চিত করতে পারলে বাল্য বিবাহ বন্ধ হবে।
তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষায় জেন্ডার সমতা অর্জন করেছি। এবছর এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের সংখ্যা সামান্য কম থাকলেও আশা করি আগামী দুই বছরে এটি সমান হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের নিবন্ধন হার এখন যথাক্রমে ৫৫শতাংশ এবং ৪৫ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা এক্ষেত্রেও সমতা অর্জন করবো।
শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকাও বাল্য বিবাহের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, মেয়েরা যখন মাধ্যমিকে যায় তখন তাদের সামনে কর্মসংস্থানে কোন সুযোগ না থাকায় তারা বাল্যবিবাহতে আগ্রহী হয়।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ১৫ লাখ শিশু এখনও স্কুলে যাবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এবং তারা বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়, যেমন: শিশু শ্রম, বাল্য বিবাহ, বৈষম্য, শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন ইত্যাদি। এদিকে শিশু বিবাহের ব্যাপকতার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বেও তৃতীয় অবস্থানে এবং সাব-সাহারান আফ্রিকাকে বাদ দিলে প্রথম অবস্থানে রয়েছে।
বাল্য বিবাহ বক্তারা বন্ধে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে যৌথভাবে কাজ করতে একটি ‘ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ’ গঠনের সুপারিশ করেন। তারা মেয়েদের প্রতি সামাজিক ও পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তন, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ, মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান। এছাড়াও মানসম্মত শিক্ষা বজায় রাখতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।
‘শিশু বিবাহ বন্ধে শিক্ষায় বিনিয়োগ’ শীর্ষক এ সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের(ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিট্উিটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান, ঢাবি’র ওমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া হক এবং টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস্ -এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মাহমুদুল কবির।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক চন্দন জেড গোমেজের সভাপতিত্বে ঢাবি’র শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস, আইন ও শালিস কেন্দ্র, নারী ও শিশু লিড গ্লোবাল এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
এসএইচএস/আরআই