শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনে কঠোর শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৭ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৩:৪২ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৭

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনে ৩০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা ফি নির্ধারণ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা যাচাই করতে চার স্তরের কমিটি গঠনের সুপারিশ করে একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করাসহ নীতিমালায় আরও বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

খসড়া নীতিমালা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার বাইরের নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নাম পরিবর্তনে ৩০ লাখ, মাধ্যমিক স্তরে ৪০ লাখ, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৭০ লাখ ও ডিগ্রি স্তরে এক কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া পৌরসভার ভেতরে নিম্ন মাধ্যমিকে ৫০ লাখ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫০ লাখ, উচ্চ মাধ্যমিকে ৮০ লাখ ও ডিগ্রি স্তরের জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিম্ন মাধ্যমিকে ৬০ লাখ, মাধ্যমিকে ৭০ লাখ, উচ্চ মাধ্যমিকে এক কোটি ও ডিগ্রি স্তরের জন্য দেড় কোটি টাকা জমা দিতে হবে।

একইভাবে কোনো ব্যক্তির নামে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ অর্থ প্রতিষ্ঠানে তহবিলে জমা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সৈনিকদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণে কোনো অর্থ জমা দিতে হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বর্তমানে একটি বিধান আছে, যা খুবই দুর্বল। বর্তমানে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ফি ছয় লাখ টাকা, মাধ্যমিকে ১০ লাখ ও উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে ১৫ লাখ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। ডিগ্রি স্তরের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো নির্দেশনা নেই। এ ছাড়া এ বিষয়ে আর কোনো বিধিনিষেধ নেই। ফলে এমন দুর্বল বিধির ও যথসামান্য টাকা জমা দিয়ে প্রভাবশালীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে লিখিয়ে নিচ্ছেন।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রথমে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির অনুমোদন নিতে হবে। এরপর বহুল প্রচারিত দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। নাম পরিবর্তন আবেদন যাচাই-বাছাই করবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি। একইভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ডিগ্রি কলেজ বা মাদরাসা নিয়ন্ত্রণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি কাজ করবে।

এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শাখার অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের পৃথক পৃথক কমিটি গঠন করা হবে। চূড়ান্তভাবে এ কমিটি নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করলেই তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এ ব্যাপারে নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) মোল্লা জালাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করতে মন্ত্রণালয়ে অসংখ্য আবেদন পাওয়া যাচ্ছে। বিগত দিনে অনেক সরকারি-বেসরকারি ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন হয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নাম পরিবর্তনে নিরুৎসাহিত করতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে, কাজ প্রায় শেষ। নীতিমালাটি এখন মন্ত্রীকে দেখানো হবে। তার সম্মতি পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, চলতি মাসে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার নাম পরিবর্তনের জন্য কয়েক শত আবেদন জমা হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তন ও যত্রতত্র ব্যক্তির নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ঠেকাতেই কঠোর নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২০ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহবার হোসাইনের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন ও ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করে কমিটিকে তা উপস্থাপন করতে বলা হয়। কমিটি কয়েক দফায় সভায় করে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করেছে।

আরএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :