সেশনজট নিরসনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা রাখছে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫০ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের উচ্চশিক্ষায় সেশনজট নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তবে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় এখনও ন্যূনতম শর্তপূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এদের বেশি দিন চলতে দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিচেবনা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, ভর্তিসহ সব ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গি কার্যক্রম সংক্রান্ত সংশ্লিষ্টতা ছিলো, আমরা শক্ত হাতে তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে তোমরা আজ এ পর্যায়ে এসেছো। তাই সমাজ থেকে নতুন শিক্ষা নিয়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য অবদান রাখতে হবে।

কনভোকেশন স্পিকার নোবেলবিজয়ী ড. মার্টিন শেলপি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা বেশি উপদেশ না শুনে নিজেদের মৌলিক সত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেবে। প্রত্যেককে স্ব-স্ব স্থান থেকে সমাজে অবদান রাখতে হবে।

নিজ জীবনের ঘটনা মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, আমার বাবা স্কুলের গন্ডি পেরুতে পারেনি। টিউশন ফির অভাবে মা কলেজের গন্ডি পার হতে পারেনি। কিন্তু আমার প্রবল ইচ্ছা ছিলো বিজ্ঞানী হওয়ার। সে অনুযায়ী আমি গবেষণারত ছিলাম। কিন্তু সেই গবেষণা ব্যর্থ হয়।

তিনি বলেন, আমাকে বলা হয় নিজের বুদ্ধিমত্তা না থাকলে গবেষণা করা যায় না। এরপর আমি গবেষণা ছেড়ে দিয়ে হাইস্কুলে শিক্ষাকতা করি। তখন আমার এক সহকর্মী আমাকে আবার গবেষণার সুযোগ করে দেন। এরপর আমি বুঝতে পারি গবেষণা বিভিন্নভাবে হতে পারে। পরে সেই কাজে আমি সফল হয়। তাই হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।

উল্লেখ্য ড. মার্টিন শেল ২০০৮ সালে রসায়ন বিভাগে গ্রিণ ফ্লোরসেন্ট প্রোটিন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার পান। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

সমাবর্তনে আরও বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজান, উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম সমাবর্তনে মোট ২ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেয়া হয়। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ১ হাজার ৯১৮ জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৮৬৭ জন রয়েছে। এ ছাড়াও সেরা ফলাফলের জন্য দুই জনকে চ্যান্সেলর স্বর্ণ পদক ও ৮ জনকে উপাচার্য স্বর্ণ পদক দেয়া হয়েছে।

এমএইচএম/এমএমজেড/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]