শিক্ষাব্যবস্থা এখন অতিমাত্রায় নিপীড়ক : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৩ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮

গোটা শিক্ষাব্যবস্থাই এখন অতিমাত্রায় নিপীড়ক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন লেখক, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জবাবদিহিতা না থাকার কারণেই ধ্বংসপ্রায় শিক্ষাব্যবস্থা। আর নিপীড়নমূলক কাঠামোয় কোমলমতি অরিত্রিরা আত্মহত্যা করছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রির আত্মহত্যা এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় এই শিক্ষাবিদের। গোটা জাতি ভ্রান্ত শিক্ষানীতির খপ্পরে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সমাজে এখন ক্ষমতার খুব অভাব। এই অভাব পূরণ করতে সবাই যেন মরিয়া। ক্ষমতার কেন্দ্রে যেতে এবং থাকতে অসভ্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে মানুষ। ক্ষমতার অপব্যবহার এখন সর্বত্রই।

তিনি বলেন, সমাজ বা রাষ্ট্রে কোনো জবাবদিহি নেই। লাগামহীন রাষ্ট্রনীতি শাসকদেরই রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এমন নীতিতে রাষ্ট্র নিপীড়ক হয়ে উঠতে বাধ্য। তার প্রভাব সমাজের সর্বত্রই। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আজ যে প্রশ্ন উঠেছে, তা মূলত সমাজ, রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহার।

এই গবেষক আরও বলেন, একটি সমস্যাকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। প্রত্যেকটি প্রত্যেকটির সঙ্গে সম্পর্কিত। রাজনীতি, সমাজনীতি এখন সুস্থধারায় পরিচালিত হচ্ছে না। ত্রাস আর জবরদস্তির রাজত্ব কায়েম হচ্ছে। এই ত্রাস এখন শিক্ষাঙ্গনেও বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা এখন শিক্ষকদের ভয় পায়। অথচ শিক্ষকদের হওয়ার কথা অভিভাবক বা বন্ধুর মতো। শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা এবং সহানুভূতির নজির রাখার কথা প্রতিটি ক্ষেত্রে।

‘শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিপীড়ন বন্ধ হওয়া সময়ের দাবি। এই নিপীড়ন বন্ধ হোক সর্বত্রই। রাস্তায় মানুষ মরছে অপঘাতে। রাজনীতির নামে হত্যা, গুম হচ্ছে। আর জীবন নিয়ে হতাশ ব্যক্তিদের বাধ্য করা হচ্ছে আত্মহননে। এভাবে একটি সমাজব্যবস্থা চলতে পারে না। রাষ্ট্র, সমাজ নিয়ে আমরা এক অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করছি’,- বলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

এএসএস/জেডএ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :