শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করাবে ভিকারুননিসা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪০ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে চলছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আন্দোলনের তোপে পড়ে এক যুগের বেশি সময়ের পর অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মেধা-মনন ও চিন্তা-ভাবনা স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাউন্সেলিং করানো হবে। এছাড়াও যেকোনো সমস্যা জানাতে অভিযোগ বক্স বসানো হবে।

গতকাল রোববার বিভিন্ন দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে ২০১৯ সালের ১ জানুযারি পর্যন্ত অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মরত মহিলা শিক্ষক প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। তারা যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন চূড়ান্ত করবেন। সরকারি প্রক্রিয়ায় এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হবে।

ভিকারুননিসার এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে তাই ছাত্রীদের মানসিক পরামর্শ বা কাউন্সেলিং দেবার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত ২ ডিসেম্বর ওই স্কুলে পরীক্ষা চলাকালীন অরিত্রি অধিকারী নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে নকল করার অভিযোগ ওঠে এবং পরদিন তার বাবা-মাকে ডেকে এনে তিরস্কার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেদিনই অরিত্রি শান্তিনগরে তাদের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে জানান তার অভিভাবকরা।

অরিত্রির পরিবার এবং বন্ধুদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে হেনস্তা এবং অপমানের শিকার হতে হয়, তার কারণেই সে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ করেছেন। এছাড়া তারা অভিযোগ করেছেন যে এর আগেও অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।

গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় তাই ছাত্রীদের মানসিক সহায়তা দেবার জন্য কাউন্সেলিং করানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। জানুয়ারির শুরুর দিকে এটা করা হবে। কোনো ছাত্রীর মধ্যে কোনো মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ দেখতে পেলে তাকে কাউন্সেলিং করবেন।

চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য অ্যাডহক ভিত্তিতে দুইজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও কাউন্সেলিং করানো হবে।

ভিকারুননিসার সব ব্যাঞ্চে অভিযোগ বক্স বসানো হবে। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে সেই বক্সে অভিযোগ দেয়া যাবে। প্রতি সপ্তাহে অধ্যক্ষ অভিযোগ বক্স খুলে তা সমাধানের করার চেষ্টা করবেন। যদি তিনি সমাধান করতে ব্যর্থ হন, তবে তা গভর্নিং বডির সদস্যরা সমাধান করবেন বলে জানান গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে অভিভাবকরা বলেন, কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় অতিরিক্ত অনুভূতিশীল এবং সংবেদনশীল হয়, এবং অনেক সময় সামান্য ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে; তাই তাদের জন্য মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা সব স্কুলেই থাকা প্রয়োজন।

এমএইচএম/জেএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :