একাদশে ভর্তিতে প্রতারণা করলে কঠোর ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ১২ মে ২০১৯

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

তিনি বলেন, কেউ যেন প্রতারণার আশ্রয় না নিতে পারে সে জন্য একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনেক পরিবর্তন এনেছি আমরা। প্রথমবারের মতো অভিভাবকের ন্যাশনাল আইডি কার্ডের পিন নম্বর বাধ্যতামূলক করেছি। এরপরও যদি কেউ প্রতারণা করে তাহলে তাকে দমন করার জন্য আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম উদ্বোধনকালে শিক্ষা উপমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহামুদ উল হক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যারিস্টার নওফেল বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যেন প্রতারণা ও ভোগান্তির শিকার না হয় সে ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রণালয় সজাগ দৃষ্টি রাখছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে নওফেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে আমরা অনেক দূর আলোচনা এগিয়ে রেখেছি। এ বছর না হলেও তার পরের কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করব।

একাদশ শ্রেণিতে সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রমের উদাহরণ দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার কথা বলেন তিনি। এ বছর টানা পঞ্চমবারের মতো অনলাইনে সমন্বিত ভর্তি কার্যক্রম চালাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে একাদশ শ্রেণিতে অনানুষ্ঠানিক ভর্তি কার্যক্রম শনিবার মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়েছে। রাত ১২টার পর থেকে অনলাইনে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আবেদন করতে পেরেছে শিক্ষার্থীরা। আবেদন করা গেছে এসএমএসের মাধ্যমেও।

ভর্তির জন্য আবেদনকারীর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর এবার বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে। ২০১৭, ১৮ এবং ১৯ সালে যারা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে তারাই এবার ভর্তি হতে পারবে। মোট আসনের অতিরিক্ত পাঁচ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক বলেন, তিনটি ধাপে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে জিপিএ-৫ ও জিপিএ-৪ প্রাপ্তি প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে। বাকিরা তৃতীয় ধাপে ভর্তির সুযোগ পাবে। কেউ ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না।

উল্লেখ্য, একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে ২৩ মে পর্যন্ত চলবে। ৩০ জুনের মধ্যে ভর্তি শেষ হবে। তিনটি ধাপে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবে। আগামী ১ জুলাই সারাদেশে একযোগে ক্লাস শুরু হবে।

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে চার হাজার ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২২ লাখ আসন রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা বোর্ডের দুই হাজার ৭৬৩টি প্রতিষ্ঠানে তিন লাখ আসন রয়েছে।

এমএইচএম/বিএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :