ফোনালাপ নিয়ে তোলপাড়, ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ বললেন ‘এডিট করা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫০ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২১

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়েছে, যেটিকে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার (মুকুল) ও অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর মোবাইল কথোপকথনের অংশ বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই ফোনালাপে অধ্যক্ষকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দিতে শোনা গেছে। যদিও ফাঁস হওয়া ফোনালাপকে ‘এডিট করা’ বলছেন অধ্যক্ষ কামরুন নাহার। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে।

৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের এই ফোনালাপ ফেসবুক-ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফোনালাপের এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, ‘আমি বালিশের নিচে পিস্তল রাখি। কোনো ... বাচ্চা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু ওর পেছনে লাগব, আমি শুধু ভিকারুননিসা না আমি তাকে দেশছাড়া করব।’

এমন আরও কিছু বক্তব্য রয়েছে যা প্রকাশ যোগ্য নয়। এ নিয়ে ভিকারুননিসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিব্রতবোধের কথা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, এই ফোনালাপে ভিকারুননিসার সুনাম ও ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন হয়েছে।

জানতে চাইলে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুন নাহার জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত সাত মাস আগে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমি এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার পর থেকে অভিভাবক ফোরামের কয়েকজন দলবল নিয়ে এসে অনৈতিক সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তাদের কথা না শুনলে আমি এখানে থাকতে পারবো না বলে হুমকি দেয়া হয়। দুইবার আমার অফিস রুমে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। রুমে প্রবেশ করে টেবিল চাপড়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এমনকি আমাকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে। তাতে আমি গুরুত্ব না দিয়ে নিয়মের মধ্যে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছি।’

‘এ বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির লটারির সময়ও ১২০ সিট খালি রয়েছে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। সবমিলিয়ে প্রায় ১৫০-৬০ সিট খালি আছে। মূলত সেগুলোতে অবৈধ ভর্তি বাণিজ্য করতে অভিভাবক প্রতিনিধিরা আমাকে অনেক আগে থেকে চাপ দিচ্ছে। আমি তাদের কথা না শোনাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সুবিধাবাদি কিছু অভিভাবকদের নিয়ে আমাকে চেয়ার থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। যোগদানের দিনেও তারা আমাকে অফিস কক্ষে প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দায়িত্বে বসি।’

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘সম্প্রতি একাদশ শ্রেণিতে একজনকে ভর্তির জন্য অভিভাবক মীর সাহাবুদ্দিন টিপু আমাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তার কাজ করে না দেয়ায় আমার সঙ্গে তার ফোনালাপ এডিট করে যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়া হয়েছে।’

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘অধ্যক্ষ আমার পূর্ব পরিচিত। এজন্য মাঝে মাঝে তার সঙ্গে আমার ফোনে কথা হতো। গত শুক্রবার শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের বিষয়ে তাকে আমি ফোন করি। এ সময় তিনি অভিভাবক প্রতিনিধি ও সাধারণ অভিভাবকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।’

এ বিষয়ে সব তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বেইলি রোডের মূল ব্রাঞ্চ, আজিমপুর, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা ব্রাঞ্চ মিলে প্রায় ৮০০ শিক্ষক রয়েছেন। তার মধ্যে স্কুল পর্যায়ের পূর্ণকালীন ৩৩৪ জন ও কলেজ পর্যায়ে ৭০ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৩ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। বাকিরা খণ্ডকালীন শিক্ষক। শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতন বাবদ প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

ভিকারুননিসার একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু অভিভাবক ভর্তি বাণিজ্যসহ শিফট ও ব্রাঞ্চ পরিবর্তন করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে থাকেন। অভিভাবক প্রতিনিধিরাও নানা অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে থাকেন। তবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে চলা এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন অধ্যক্ষ কামরুন নাহার। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটি এবং অভিভাবক ফোরামের সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা অধ্যক্ষকে যখন-তখন অপমান-অপদস্থ ও গালিগালাজ করাসহ নানা হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

বর্তমানে একটি ‘এডিটেড অডিও ক্লিপ’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অধ্যক্ষকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই শিক্ষকরা।

এমএইচএম/এমআরআর/এইচএ/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]