বই আলোচনা

প্রেমে প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি: বহুমাত্রিক কবিতার উন্মিলিত সরোবর

সাহিত্য ডেস্ক
সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৪৭ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: লেখকের সৌজন্যে

আমিরুল বাসার

মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনুভূমি রং, রূপ ও বোধের সমন্বিত প্রকাশ কবিতা। এর প্রকাশের ভাষা-কাহিনি বিভিন্ন বৈচিত্র্যের অনুভবে জন্ম নেয় একেকটি কবিতা। একেক কবির অনুভূতি ভিন্নতর হতে পারে। এর প্রকাশও তেমনই বৈচিত্র্যময়। বিভিন্ন আঙ্গিকে তার চূড়ান্ত প্রকাশ। কিন্তু একটি রচনার সার্বজনীনতা তখনই হয়; যখন সে লেখায় প্রাণের সঞ্চার করে মানুষকে জাগরিত করে। সময়কে প্রতিনিধিত্ব করে সত্যকে উৎসাহিত করে একটি ভালো কবিতা যুগোত্তীর্ণ হয়ে মানুষের জীবন সংগ্রামের দিনলিপি উল্লিখিত থাকে। এর ক্ষেত্রে আরও ব্যাপ্ত প্রেম-বিরহ, সমাজ-রাজনীতির চিত্র সাবলীল শব্দের মালা বিনির্মিত হয়ে পাঠকের সামনে যখন উপস্থিত হয়। বুজুর্গ পাঠক সাদরে তা গ্রহণ ও প্রত্যাখানের অধিকার সংরক্ষণ করে। কবি বিশেষ যেমন এর বৈচিত্র্যময় তেমনই পাঠক বিশেষও এর প্রকারভেদে রয়েছে। যার ভাষার কৌশল ও প্রয়োগশক্তি যেমন তার কবিতায় সুগঠিত পরিমণ্ডলও ঠিক তেমনই আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয়। তবে পাঠক যদি শুধু কবিতার কোনো একটি দিক নিয়ে বিবেচনা না করে সামগ্রিক উপস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করার চেষ্টা করেন, তাহলে বেশিরভাগ কবিতার পাঠকপ্রিয়তা আসতে পারে। সব কবিতা যেমন কালজয়ী হয় না; তেমনই সব কবির কবিতা পাঠকের নিকট গ্রহণীয় না-ও হতে পারে। সেটা তার উপস্থাপনা ও বিষয়ের আঙ্গিকের ওপর নির্ভর করতে পারে।

সাম্প্রতিক কবিরা বিশেষভাবে সৃষ্টিশীল। যা কখনো কখনো বিচিত্রভাবে। তাদের এই বৈচিত্র্য স্বাদ-বদলের জন্য নয়, আধুনিক কবিতা সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসু তাঁর সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ শীর্ষক গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। আধুনিক কবিতা কোনো একটা চিহ্ন দ্বারা অবিকলভাবে শনাক্ত করা যায়। একে বলা যেতে পারে বিদ্রোহের, প্রতিবাদের কবিতা, সংশয়ের, ক্লান্তির, সন্ধানের, আবার এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে বিশ্বয়ের জাগরণ, জীবনের আনন্দ, বিশ্ববিধানে আস্থাবান চিত্তবৃত্তি। আশা আর নৈরাশ্য, অর্ন্তমুখিতা বা বহির্মুখিতা, সামাজিক জীবনের সংগ্রাম আর আধ্যাত্মিক জীবনের তৃষ্ণা, এই সবগুলো ধারাই খুঁজে পাওয়া যাবে, শুধু ভিন্ন ভিন্ন কবিতে নয়, কখনো হয়তো বিভিন্ন সময়ে একই কবির রচনায়। উপরন্তু এর বড় একটি অংশজুড়ে আছে প্রেমের কবিতা আর প্রকৃতির কবিতা; সেই প্রেমের আরও সংরাগ যেমন বাংলা কবিতার সাহসের সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে; তেমনই প্রকৃতিও অন্যরকম অর্থ পেয়েছে কখনোবা রূপকথার রূপান্তরিত হয়ে, কখনোবা নাগরিক অথবা বৈদেশিক জীবনের পটভূমিকায়।

এই প্রেক্ষিতে আমি সদস্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, একখানি বিশেষ কাব্যগন্থ ও তার ভেতরের কবিতাগুলো নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো। কবি হাফিজ রহমানের সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমে প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’। গ্রন্থের নামকরণের মধ্যেই পাঠক সহজেই বুঝে নিতে পারবে গ্রন্থটি কোন বৈচিত্র্যের, এর আঙ্গিক কী রকম এবং উপস্থাপনার বিষয় কী? নিঃসন্দেহে এর বিষয় দেশ। তবে শুধু দেশ বললে পুরোপুরি পরিপূর্ণতা আসবে না। দেশের বিষয়ের পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক সময়ের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে এই গ্রন্থে। এককথায় ঋতুভিত্তিক বাংলার প্রাকৃতিক বৈশ্বিক নিয়ে বিভিন্ন বৈচিত্র্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে দেশপ্রেম-ভাষা আন্দোলন উঠে এসেছে তার কবিতায়। তিনি একই বিষয়ের ওপর বিভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন তার কবিতাগুলোয়।

‘প্রেমে প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’ তিনি যে এই নাম ব্যবহার করেছেন গ্রন্থের; তা নিছক নাম নয় বরং কবি হৃদয়ের দেশের প্রতি তার যে আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রেম-ভালোবাসা, তা ঋতু ও প্রকৃতির মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন। এ ধরনের প্রয়াস বর্তমান কবি সমাজে বড্ড একটা দেখা যায় না। সেদিক থেকে কবি হাফিজ রহমান একেবারে নতুন একটি বিষয় উপস্থাপন করতে সফলভাবে সক্ষম হয়েছেন। যা পাঠককুলকে তাদের কাব্যিক অনুভূতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ হবে। এ গ্রন্থের স্বাদ ও সুধা পাঠক মহলে সাড়া জাগাবে। আগামীর তরুণ কবিরা তারা বিষয়টি গ্রহণ করে আমাদের সামনে তাদের এই নতুন ধারার কবিতা উপহার দেবেন। কাব্যজগতে তার স্থায়ী আসন হবে সুনিশ্চিত। এখন আমি কবি হাফিজ রহমানের ‘প্রেমে প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’র ভেতরে প্রবেশ করবো। অর্থাৎ সূচিপত্রের শিরোনাম ধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো। আশা করছি অনুসন্ধিৎসু পাঠকরাও আমার সাথে সাথেই থাকবেন।

কবিতার ক্রমবিকাশ সাজানো হয়েছে পৃথক পৃথক ৪টি শিরোনামে যেমন- ‘ঋতু মনোহর’, ‘ভাষা অধিকার’, ‘প্রেমসত্বার’ ও ‘দেশমাতৃকার’। এর মধ্যে ‘ঋতু মনোহর’ শিরোনামে সাধারণত প্রকৃতিকে বিশেষ করে ঋতুভিত্তিক কবিতার অবতারণা করা হয়েছে। যেমন- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। এই ঋতুগুলো নিয়ে লেখা হয়েছে এবং একই ঋতু নিয়ে একাধিক কবিতা লেখা হয়েছে, যা কাব্যগ্রন্থে ভিন্ন স্বাদ ও ভিন্নমাত্রা যুক্ত করেছে। এখানে একই ঋতুর কবিতা বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রকাশ করেছেন কবি। সেটা সফলও হয়েছেন; যার কারণে পাঠক তার যে কোনো অবস্থান থেকে তার প্রিয় কবিতাটি পাঠ ও নির্বাচন করতে সমর্থ হবেন।

অন্যদিকে ‘ভাষা অধিকার’ বিভাগ বাংলা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একাধিক কবিতা কবি লিখেছেন। সেখানে আমাদের ভাষা অধিকার ও ভাষার লড়াইয়ের সেই সব দিনগুলো সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন আঙ্গিকে। পাঠকদ্বয়ের কাছে কবিতাগুলো নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে।

‘প্রেমসত্বার’ বিভাগে কবি হাফিজ রহমানের একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা সন্নিবেশিত হয়েছে। এই কবিতাগুলো প্রেমিকও ভাবুক পাঠকের কাছে বিশেষভাবে গ্রহণীয় হয়ে উঠবে। কেননা যে একবার প্রেম করেছেন বিরহেও ছোঁয়া কমবেশি তিনিও অনুধাবন করতে পেরেছেন। এই প্রেমিক পাঠককুলের হৃদয়ের কথা হাফিজ রহমানের কলমের দ্বারা প্রস্ফুটিত হয়েছে এ গ্রন্থে। গ্রন্থের সর্বশেষ ‘দেশ মাতৃকার’ বিভাগে স্থান পেয়েছে অনেকগুলো মাতৃভূমির প্রতি কবির অনুরাগ আর প্রেম-ভালোবাসার ছবি। কবি নিজে একজন দেশপ্রেমিক। তাই তার কবিতায় দেশমাতৃকার নানা বিষয় উঠে এসেছে সহজ ভাষায়। দেশপ্রেমের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে কবি কবিতাকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন সচেতনভাবে। এই কবিতাগুলো পাঠ করলে বোঝা যায়, কবির কবিতা নির্মাণের কতটা দক্ষতার স্বাক্ষর তিনি রেখেছেন তার এসব কবিতায়। পাঠকমহল পাঠের মাধ্যমে তারা জানতে পারবেন কবি হাফিজ রহমানের হৃদয়ে বহমান নানা অনুসন্ধিৎসা সার্বজনীনভাবে আমাদের পুলকিত ও আলোকিত করবে।

তার বৈচিত্র্যময় কবিতা দিয়েই এই কাব্যগ্রন্থের শরীরকে আলোকিত করেছেন কবি। এমতাবস্থায় কবি হাফিজ রহমানের ‘প্রেম প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’ কাব্যগ্রন্থের বিভিন্ন বিভাগের কবিতাগুলো নিয়ে একটু আলোচনা করার চেষ্টা করবো। ‘প্রেম প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম পর্বে ‘ঋতু মনোহর’ শিরোনামে ৩টি কবিতা আমরা দেখতে পাই। এর প্রতিটি কবিতা বিভিন্ন ঋতুকে কেন্দ্র করে লেখা। কোনো কোনো ঋতুকে নিয়ে একাধিক লেখাও আছে। যেমন গ্রীষ্ম ঋতুতে পহেলা বৈশাখ ১৪২৫ নামে প্রথমে একটি কবিতা আবার তার ঠিক পরের কবিতাটাও ‘পহেলা বৈশাখ ১৪২৮’ একই গ্রীষ্মকালের বৈশাখ মাস নিয়ে তিনি এই বিভাগে মোট সাতটি কবিতা লিখেছেন। প্রথমটি এরকম ‘আজ মধ্যাহ্ন হতে এক অনাবিল ছন্দে বৃষ্টি’, একই কবিতায় অন্যভাবে তিনি লিখেছেন, ‘এমন একটা বৃষ্টি তুমি কতদিন দেখোনি?’ (পহেলা বৈশাখ ১৪২৫) অন্যখানে কবি লিখেছেন, ‘যতই রোদ্দুর থাক, বোশেকের আকাশ কভু শুষ্ক হয় না। ঘ্রাণ থাকে সোঁদা মাটির, প্রাণ থাকে নবীন ফসলের।’ (পহেলা বৈশাখ ১৪২৮) এভাবে তিনি নিজের ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি থেকে বৈশাখ নিয়ে লিখেছিন। তিনি লিখেছেন, ‘অসংখ্য হৃদয় পোড়ে, বিরহী বাতাস পোড়ে/ চৈত্রের মাঠ পোড়ে- পুড়ে যায় প্রেমের ভবন’ কবিতাটির শেষের দু’লাইন এরকম, ‘প্রেমহীন মানব হৃদয়/ সিক্ত করো তোমার সুশীতল বৃষ্টিচ্ছটায়’ (হে বোশেখের মেঘ)

প্রকৃতির যে লীলাখেলা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা দেখতে পাই, তার সুর ও ছন্দ একেক সময় একেক রকম। কবির মনেও তেমনই বৈশাখের বিভিন্ন অনুষঙ্গ দোলা দিয়েছে, যা আমরা এই গ্রন্থে দেখতে পাই। কবি লিখেছেন, ‘ভোরের দোয়েল হয়ে ছুঁয়ে গেছি হৃদয় তোমার/ উদাসী দুপুরের ক্লান্ত ঘুঘুর মত কতবার ডেকে গেছি,/ তোমরা শুধু উপেক্ষা দেখাও।’
এভাবে বৈশাখ নিয়ে তার নানা উপলব্ধি স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে গ্রন্থিত কবিতাগুলোয়।

এই বিভাগে অন্যান্য কবিতাগুলো থেকে কয়েকটি কবিতা আমরা পড়ে নিতে পারি, যেমন-
‘আষাঢ় মাসের আকাশ জুড়ে
কালো মেঘের ভেলা,
উদাস মনে বসে দেখি
জীবন তরীর খেলা।

যাচ্ছে জীবন মেঘের মতন
যাচ্ছে চলে দূরে
ফিরবে না আর অতীত কভু
মন বেদনার সুরে।

আষাঢ় আসে প্রতিবছর
বর্ষার মেঘ নিয়ে
শুভেচ্ছা তার সাথে
আসে কদম কেশর হয়ে।’
(আষাঢ়)

অথবা
‘আজ সকালে আকাশ জুড়ে সজল মেঘের ভেলা,
অন্তবিহীন সারাটা দিন নিরন্তর এই খেলা।
ঝরছে অঝোর বৃষ্টি মধুর নদী হয় চঞ্চল,
বৃক্ষরা আজ করেছে সাজ সবুজ আঁচল।
ঋতুবতী যেন সে আজ মেঘ প্রিয়রে যাচে,
সারা দুপুর হর্ষ-মধুর বৃষ্টির গানে নাচে।
আমারও আজ নেই কোন কাজ বৃষ্টির গান শুনি,
শ্রাবণ আমার এতো আপন কখনো বুঝিনি।’
(শ্রাবণধারা)

কিংবা
‘একটা আকাশ ছিল একলা আমার,
একদিন তুমি বললে, দুজন হলেই পূর্ণ হতো,
সেই থেকে দুজনেই ভরেছি আকাশ
কখনও মেঘে, কখনও শুভ্র জোছনায়।
তারপর অনাদিকাল কেটে গেলে জীর্ণ আমি
মেঘের কাছে প্রশ্ন রাখতেই ঝরঝর করে কেঁদে
সে বলে ওঠে, শুকতারা জেগে উঠতেই সে
নীলিমায় মিশে গেছে, তার দীর্ঘশ্বাস বাতাসে রেখে।
এই বিষণ্ন বিকেলটা তাই আমি বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দিয়ে
অন্তরীক্ষে তাকেই খুঁজি...’
(বৃষ্টি বিকেল)

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সময়ের আবাহনে যেভাবে ঋতু পরিবর্তন হয় কবির পথের গাহনে তার ছায়া পড়ে অবিরাম শব্দ ও ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে। তাই নানা প্রকরণে কবির প্রয়োগ শৈলীতে আমরা পেয়েছি একের পর এক কবিতা। যেমন-
‘বর্ষা বিদায় নিলেও রেখে যায় যৌবনের স্মৃতি,
মাঠে আর খালে বিলে, ডোবায় নালায়,
ধানের ক্ষেতে আর কচুরিপানায়!
গাঁয়ের পথেঘাটে, সবখানে রেখে যায় স্মৃতি,
হয়ত বিদায়ে তার রেখে যাওয়া বিষণ্ণতার গীতি।
বিষণ্নতা একটা রোগ, প্রকৃতির এতো সুখ, বিষণ্ণতা যায় না।
হয়ত চেয়েছে যা, মনের মতন করে পায় না।

তাই তার মন ভার, উড়ে উড়ে সাদা মেঘে,
বর্ষা হারানো নদীতীর ক্রমশঃ ছেয়ে যায় শুভ্র কাশফুলে,
হলুদ ফড়িঙ ওড়ে নদীতটে, পালতোলা নৌকার গলুইয়ে কভু বসে।
আবার অস্থির হয়ে ওড়ে সে, উড়তেই থাকে,
এভাবেই উড়ে উড়ে কখন যে হারায় কোন বাঁকে।’
(শরত)

অথবা
‘হেমন্তে হাঁটি না আমি বহুকাল এই মেঠোপথে,
ভোরের মিঠে রোদে ঘুমঘুম চোখে
সেই কবে হেঁটেছিলাম!
লাউয়ের সবুজ ডগা কিশোরীর মত
হাত মেলে ডেকেছিল আলিঙ্গনে।
তারপাশে তালগাছ, দীর্ঘ শরীরে
পথ দেখায়। শিশির-ধৌত দূর্বার নরম শরীর,
প্রথম সূর্যের আলো মেখে ঝলমল করে।
রেশমী কোমল পথে আমি হেঁটেছি কত!
পোয়াতি ধানের ক্ষেত- নবান্নের প্রতীক্ষারত।
ভোরের পাখিগুলো রাত্রির ক্লান্তি ভুলে কুজনে মাতে।
শুধু আমারই হয় না দেখা কতকাল!’
(হেমন্তে)

অথবা
‘শীত ভোরে উঠে পড়ে ছোট্টো ছাওয়াল
পুকুর পাড়ের ঐ খেজুর গাছের
হাঁড়ি ভরা সুমিষ্ট জল! আহ্ কতকাল!

রোদের উম মেখে লেপের শরীরে
অতি ভোরে ছুটে যাই খুঁজে নিতে
হারানো অতীত, সেই শিশিরের ভোর।

মাঠ ভরা মটরশুঁটির নীল, তুলে আনি সবুজ ডগা
কাল রাতে ঢেঁকির শব্দ ছিল কলরবে নতুন চালের গুড়ি,
ওরা এখনও শাক চিতই করে ডাকে, অবশেষ রয়ে যায়
জাল দেওয়া রসের হাঁড়িতে। আহ জীবন এখনও আছে!’
(ও মাটি, মাটির গন্ধ)

ঋতুবৈচিত্র্যের নানা উপসর্গ সাবলীলভাবে তিনি তার কবিতার মধ্য দিয়ে প্রক্ষান্তরের আমাদের জীবনচিত্র তুলে ধরেছেন। আমাদের অতীতকাল, ছেলেবেলার দুরন্ত সময়গুলো কীভাবে যাপিত হয়েছিল তার এক অনুপম কাব্যিক উপস্থাপনা তার এ গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছেন; যা পাঠক সমাজকে তার অতীতের দিনে নিয়ে যাবে, এক নষ্টালজিয়ায় ঘোরে পাঠক খুঁজে ফিরবে তার অতীত স্মৃতিময়কালকে। এই বিভাগের শেষের একটি কবিতা,
‘বিবর্তনে ফিরে আসে ফাগুন হাওয়া
আসে প্রকৃতির বুকে অপরূপ সাজে,
কি এক চেনা সুর সারাক্ষণ হৃদয়ে বাজে
প্রকৃতি হঠাৎ হেসে ওঠে কলকল সুরে!

বুকের ভিতর জাগে এক গোপন আগুন
সারাটা দিনমান গভীর ঘোরের মাঝে
সেই চেনা সুর বাজে—
সুন্দর ছিল না তো কেউ, না আমি না তুমি
না চারপাশের ধূসর শুষ্ক ভূমি।’
(ফাগুনের আগুন)

‘প্রেমে প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’ কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘ভাষা অধিকার’ শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে মোট বারোটি কবিতা। এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না যে কবিতাগুলো সবই মাতৃভাষা বা বাংলা ভাষা কেন্দ্রিক। পৃথিবীতে একটিই মাত্র রাষ্ট্র, যারা ভাষাভিত্তিক আন্দোলন সব শ্রমের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। ভাষা অধিকার প্রত্যেক সম্প্রদায় বা জাতির মৌলিক অধিকার বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা করতে এদেশের মানুষ জীবন দিয়ে নিপিড়ক রাষ্ট্রের নিকট থেকে মাতৃভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কবি হাফিজ রহমানের এ গ্রন্থে আমরা পাই ভাষাকেন্দ্রিক নানাধরনের কবিতা। যার উপস্থাপনার বৈচিত্র্যময় ও সহজপাঠ্য। কবিতার শব্দচয়ন সাবলীল বলে সেগুলো সহজেই পাঠক হৃদয়ে ঠাঁই নিতে পারবে।

ভাষা অধিকার শিরোনামে মুদ্রিত কবিতা থেকে এখানে দু’একটি তুলে ধরা হলো:
‘একুশ আমার হৃদয় মাঝে চেতনার সোপান,
একুশ মানে একটি জাতির ঘুম ভাঙানো গান।
একুশ ছিল মাতৃভাষা ভালবাসার স্মৃতি,
একুশ ছিল ভাই হারানোর ভীষণ দুঃখ গীতি।
একুশ আমার নতুন শপথ, নতুন আলোর ভোর,
একুশ আমার নয়া শপথ, নতুন পথের দোর।’
(একুশ আমার)

অথবা
‘মাতৃ জরায়ু থেকে মাটির স্পর্শ, মুখে বলি মা
মায়ের ভাষার জন্য রক্ত ঝরাই- এ ভাষা প্রাণের!

শত বাধা রক্তে ধুয়ে শুদ্ধ করি প্রাণ-
প্রাণের ভাষা, অতঃপর...

তৃপ্ত দুচোখ মেলে কতবার দেখি
শত-শত রক্তপলাশ আর শিমুলের লাল

এসব ভাষার তরে অকাতরে দান করা রক্তের রঙ
উতল হাওয়ায় ভাসে অতৃপ্ত দীর্ঘশ্বাস’
(মায়ের ভাষা)

অথবা
‘আমাদের বুকের দীপ্ত ভাষার দাবী,
শোষকের গুলিতে হয়ে যায় রক্ত লাল
ক্রমাগত ধূসর মাটিতে জমে হয়েছে কালো।
সে মাটির বুকে জন্মে অশোক, পলাশ—
ফোটে অজস্র ফুল, যেন শহিদের রক্তস্নাত
মাথার উপর অনন্ত আকাশ
আকাশের বুকে জমে অজস্র সুর—
আমার প্রিয় বাংলা যতদূর শুনি,
তারেই আপন বলে গুনি।’
(যে ভাষা বুকের)

কিংবা
‘দিকভ্রান্ত নাবিকের মতো
উত্তর-দক্ষিণ কিম্বা পূর্ব-পশ্চিমেই নয়,
যেখানেই শব্দ শুনি বাংলা ভাষার
সেখানেই অধিকার আমার!
সর্বগ্রাসী বুভুক্ষের মতো
যতদূর দৃষ্টি যায়,
শ্রবণ যায়,
হৃদয়ের অনুভূতি যায়!
ঊষর মরু কিম্বা দুর্গম পাহাড়,
উত্তর মেরু কিম্বা আমাজন বন,
বালিয়াড়ি, বালির সাগর–
যেখানে শ্রবণে আসে বাংলা কণ্ঠস্বর,
সেখানেই ফেলি নোঙর!’
(অধিকার)

কবিতাগুলোয় কবি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা সাবলীল অর্থ দৃঢ়ভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরে সমর্থ হয়েছেন। উপরোল্লিখিত কবিতাগুলোর যে ভাষা শৈলীর মাধ্যমে সেই সময়কে তুলে ধরেছেন; সেখানে যেমন দীপ্তসংকল্প ছিল; তেমনি ছিল অধিকার শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা। এইসব প্রতিকূল অবস্থাকে তিনি ভাষা ও শব্দের বন্ধনে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন—
‘যেখানে শ্রবণে আসে বাংলা কণ্ঠস্বর
সেখানেই ফেলি নোঙর।’

কবি বলেছেন—
‘একদিন ছেড়ে গেলে এই চরাচর,
খুঁজে পাবো সীমাহীন নিস্তব্ধতার,
সেখানে বসতি গড়ি বাংলা ভাষার,
এ আমার জন্ম অধিকার।’

এখানে কবি হাফিজ রহমান নিজেও একজন ভাষাকর্মী হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন এবং তার মনের দীপ্ত বাসনার কথা নির্দ্বিধায় প্রকাশ করেছেন। ভাষা, এ আমার জন্ম অধিকার। এ বিভাগের অন্য কবিতাগুলোর মধ্যে ‘আটই ফাল্গুন’, ‘এ পাশে পদ্মার স্রোত ওপারে গঙ্গা’, ‘জেগে থাকা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কবিতা।

হাফিজ রহমানের ‘প্রেমে প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’ কাব্যগ্রন্থের আরেকটি বিভাগের শিরোনাম ‘প্রেমসত্বার’। এ বিভাগে কবিতার সংখ্যা নয়টি। ‘পরিচয় পর্ব, ‘মনে পড়ে তোমাকেই,’ ‘বিভ্রান্তি’, ‘আমাদের সবকথা’, ‘তুমি বললেই’ প্রভৃতি কবিতাগুলোর কবির প্রেয়সীকে উদ্দেশ্য করে প্রেমময় কাব্যকথার অবতরণ ঘটিয়েছেন। ভালোবাসা চিরন্তর। অসীম। তাকে বেঁধে রাখা যায় কী? এই ভালোবাসা বা ভালো লাগা কখনো এক তরফা হয় না। দুটো মনের সম্মিলনের মধ্যে যে সৃষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয় আমাদের সেই জীবনই ভালোবাসার ও প্রেমের জীবন। প্রেয়সী কখনও হারিয়ে যায় না। যার সাথে মিলন হলো না তাকেও প্রেমিক মন মনে রাখে। কবি হাফিজ রহমান তাই লিখেছেন—
‘আমাদের একান্ত কিছু ছিল,
তোমার কি আজ আর মনে আছে?
আমাদের একান্ত কিছু ছিল, একটা নির্জন খেলাঘর,
নির্জন পুকুরঘাট, কিম্বা গোধুলীর নির্জন প্রহর।
সকলে যখন হাটে, কিম্বা খেলার মাঠে,
আমরা নিভৃতে করেছি স্বপ্ন রচনা!’
(আমাদের একান্ত কিছু)

‘প্রেম সত্বার’ বিভাগের শেষের কবিতাটি আরও ভালো লেগেছে আমার কাছে পাঠকেরাও একবার পড়ে নিন—
‘কেমন ছিল সেই দিন, আমি প্রবল কৌতূহলে ফিরে চাই—
এমনি এক উজ্জ্বল দিন, প্রবল হাওয়ায়
দক্ষিণ সাগর হতে মেঘ উড়ে আসে, আমাকে জানায়
সাগর উপচে পড়ে কানায় কানায়
সে আসে ধীরে, আমাকে ভাসায়।

আমি তো অপেক্ষায় ছিলাম অশোক হয়ে
আমি তো অপেক্ষায় ছিলাম কৃষ্ণচুড়া হয়ে
তার অপেক্ষায় আমি লাল হয়ে ফুটে আছি সারা বাংলায়’
(লাল-নীল কাব্য)

কবি হাফিজ রহমানের মাল্টিপল কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেম প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’ এর সর্বশেষ ‘দেশমাতৃকার’ শিরোনামে একত্রিশটি কবিতা মুদ্রিত হয়েছে। এই কবিতাগুলো সাধারণত দেশাত্মবোধক, দেশপ্রেম এবং সাধারণত কবিতা দিয়ে সাজানো। এখানে ভয় সংশয় আছে। সমান্তরাল অবয়বে বিভিন্ন বিষয়েরও কবিতা এখানে লক্ষ্যণীয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘স্বাধীনতা’ ও ‘প্রতিবাদ হয় না।’ ‘রাতের কবিতা’, ‘জোছনা ও মাতালের গল্প’, ‘রাজপথে’, ‘আলো আসার আলো’, ‘স্পর্শে’, ‘ভয়’, ‘পরিবর্তন’, ‘মৃত মানুষ’ প্রভৃতি আমার আকর্ষণ করেছে। ভালো লেগেছে।

কয়েকটি কবিতা এখানে উল্লেখ করা যায়—
‘অন্ধকারে জেগে ওঠা প্রবল শব্দের বান আকাশে ছড়ায়
বাতাসে সেসব শব্দ অন্তরীক্ষে ওড়ে, অসীমে মিলায়।
জনপদে কৌতূহলী মানুষের ভীড়, রাতের প্রহর ভেঙে জমে,
শুনতে পায় বিজয়োল্লাস, স্বাধীনতার গন্ধ, শহিদের ঘামে।

যে সব শহিদ আজ মিশে আছে সবুজ মাটির গালিচায়,
তাদের স্মৃতি যেন দুরাশার অন্ধকারে ক্রমান্বয়ে ম্লান হয়ে যায়।
লিখেছিল শব্দ রাজি জয় বাংলা, আমাদের স্বায়ত্বশাসন,
সেসব অলীক আজ, এক মহাপুরুষের শাশ্বত কণ্ঠ ভাষণ।’
(স্বাধীনতা)

অথবা
‘মাতালটা পড়েছিল গলির মোড়ের ছোট টংঘরের পিছনে,
আকণ্ঠ পান করে বেহুশ ছিল সে,
সবকিছু ভুলে সে সদ্যজাত শিশুর মত নির্মল সারল্যে ঘুমিয়ে ছিল,
অথবা বলা যায় নিদ্রার মায়াবী আলোয় সে লুকিয়েছিল,
তার কাছে কোনকিছুর অস্তিত্ব ছিল না,
ঘরে তার জরাক্লিষ্ট মা কিম্বা পোয়াতি বৌ,
কিছুই তার চেতনায় ছিল না।’
(জোছনা ও মাতালের গল্প)

অথবা
‘এইতো আকাশ আমার ঝলমলে সপ্তর্ষিমণ্ডল
চাঁদের গ্রহণেও দেখ কত আলো জ্বলে
অজস্র আলোকবিন্দু দিনরাত কথা বলে
এককোণে পড়ে রই আমি এক খেয়ালী পাগল।

রূপের ঝলক দেখি, অনেক হাসি আর রঙের পশরা
যতটা আঁধার হয়, ততো বেশি জ্বলে ওঠে আলো
কখনো মেঘে ঢাকে সব তারা কি নিকষ কালো
কান পেতে সে আকাশে শুনি কোন অদৃশ্য ইশারা।’
(আলো আমার আলো)

কিংবা
‘এখানে আকাশ নীল, পুঞ্জীভূত কাশের শুভ্র মেঘ
উড়ে যায়, ছুঁয়ে যায় মনকে রাঙিয়ে যায়
এখানে এই ষড়ঋতুর বাংলায়!
এখানের মেঘেদের নরম ছোঁয়া যেন তোমার অধর।

এখানে হিজলের তলে ডানা ঝাপটায় কোন প্রেয়সী ডাহুক,
বিলের জলে ছায়া ফেলে শিকারী চিল,
মায়েদের নির্ভয় জলাশয় ঘিরে রাখে দিনের আলোয়
ধূসর গোধূলি তার অপরূপ ছায়া ফেলে প্রিয়ার মুখের।’
(স্পর্শ)

এবং
‘খুব ভয়ে থাকি, চারদিকে উদ্যত খড়গ,
চারদিক কসাইখানা যেন।

মনে হয়, হাত ধরে টেনে নেয় কেউ,
এই বুঝি মাথাটাকে ঠেলে দেয়
কালো যুপকাঠে, আমি সন্ত্রস্ত হই...
সেই থেকে ভয়ে থাকি,
অতি সাবধানে পা ফেলে হাঁটি,
চৌহদ্দি পার হতেই অজানা ভুবন..
(ভয়)

অথবা
‘এইখানে নদী ছিল, স্বচ্ছ ছিল যার জল,
নদীতটে গাছগুলো ছায়া ফেলে জলে
দেখত অপার রূপ, সদা করত টলমল।
---
এখন নদী নাই, মরে গেছে—
এখন বৃক্ষ নাই, ঝরে গেছে—
এখন পাখি নাই উড়ে গাছে—
তাই কবিরও মন নাই, কবে সরে গেছে!
(পরিবর্তন)

‘প্রেমে প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’র বিষয় নির্বাচন, শব্দচয়ন এবং ভাষা প্রয়োগের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন হাফিজ রহমান। বিষয়ভিত্তিক কবিতা এবং আগেও আমরা পড়েছি। কিন্তু আলোচিত কাব্যগ্রন্থটি ব্যতিক্রম উপস্থাপন। বলা যায়, এ রকম কাব্য রচনা পাঠক সমাজে হাফিজ রহমানকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে। তাই আমি এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি বহুমাত্রিক কবিতার উন্মিলিত সরোবর—‘প্রেমে প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’। কারণ তিনি গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নিজস্ব একটি ধারা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। সেজন্য আমি কবি হাফিজ রহমান ও তার কাব্যগ্রন্থের পাঠক সফলতা কামনা করছি।

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর থানার ডুমুরশিয়া গ্রামে ১৯৫৯ সালের ২০ জানুয়ারি হাফিজ রহমান জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ৮টি, কাব্যগ্রন্থ ৭টি। ‘প্রেমে প্রার্থনায় স্বদেশ তুমি’ প্রকাশ হয়েছে সাম্প্রতিক প্রকাশনী থেকে। প্রকাশকাল জানুয়ারি ২০২৬, মূল্য ৩০০ টাকা।

লেখক: কবি, কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক; সম্পাদক, সাম্প্রতিক।

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।