ঈদের পরেই বইমেলা চান বেশিরভাগ প্রকাশক

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ , লেখক ও সাংবাদিক
প্রকাশিত: ১২:১৭ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি

আর মাত্র পাঁচদিন বাকি। বাংলা একাডেমির ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে মেলা না করতে দাবি জানিয়ে আসছে প্রকাশনা ঐক্য। তারা ঈদের পরে বইমেলা অনুষ্ঠানের জোর দাবি জানান। তবে বাংলা একাডেমি এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তাদের সিদ্ধান্তে অটল। ফলে প্রকাশকদের বিশাল একটি অংশ এবারের বইমেলায় না থাকার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, অমর একুশে বইমেলা ঈদের পরে আয়োজন ও বাংলাদেশের রুগ্ন প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে প্রকাশনা ঐক্য। ১৪ ফেব্রুয়ারি এক খোলা চিঠির মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের প্রকাশকদের পক্ষে তারা এ আবেদন জানান। সেখানে বলা হয়, বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মাহে রমজানে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজনের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। রোজার ফলে দেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরাই বইমেলার প্রাণ। তাদের অনুপস্থিতিতে এবং রোজার মাসে অনুষ্ঠেয় এই মেলা হবে নিশ্চিতভাবেই পাঠকশূন্য ও নিষ্প্রাণ।

দেশের ৯০ ভাগ প্রকাশক মনে করছেন, এই সময়ে মেলায় অংশগ্রহণ করা হবে তাদের জন্য ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র শামিল। এ অবস্থায় কাদের স্বার্থ রক্ষার্থে এ মেলা আয়োজনে এত তৎপরতা এবং এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, সে নিয়ে তাদের মনে প্রশ্ন জাগে। তারা মেলা বর্জন করতে চান না, তারা চান একটি ‘সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা’। প্রকাশকদের দাবি ছিল, পবিত্র রমজান ও নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি পিছিয়ে ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হোক, যখন পাঠকদের হাতে সময় ও অর্থ-উভয়ই থাকবে।

কিংবদন্তী পাবলিকেশনের কর্ণধার অঞ্জন হাসান পবন বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলা বাংলা ভাষাভাষি প্রকাশক, লেখক ও পাঠকদের আবেগের জায়গা। আমরা সারাবছর অপেক্ষা করি এই সময়টার জন্য। অথচ ২০২৬ সালের বইমেলা আয়োজন নিয়ে যথেষ্ট জলঘোলা হয়েছে। এতটাই ঘোলা হয়েছে যে, মূলধারার সৃজনশীল প্রকাশকরা এখন মৃতপ্রায়। বইমেলার আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি নামমাত্র একটি বইমেলার আয়োজন করে তাদের দায় সারতে চাচ্ছে।’

প্রতিভা প্রকাশের প্রকাশক মঈন মুরসালিন বলেন, ‘বাংলা একাডেমির বইমেলা কমিটির স্টল বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের দাবি মানতে হবে। এবারের একুশে বইমেলা ঈদের পর হোক এটাই প্রত্যাশা।’

জলপরি প্রকাশনীর সাফিয়া খন্দকার রেখা বলেন, ‘বিগত পঁচিশ বছর আমি বইমেলার সঙ্গে যুক্ত, প্রথমে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র তারপর বাবুই প্রকাশনা এবং বর্তমানে জলপরি, এমন উদ্ভট পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি। মূলধারার প্রকাশনাগুলো ২০২৬-এর বইমেলায় অংশ নিচ্ছে না। কারণগুলো অনেকে লিখছেন আমিও লিখেছি বেশ কয়েকবার। বাংলা একাডেমি এই মেলার আয়োজক হলেও মেলার প্রাণ প্রকাশনা। এ বছরের বইমেলা হবে স্মরণকালের সবচেয়ে পাঠকহীন বিবর্ণ বইমেলা। আমার প্রকাশনা জলপরি এই বইমেলায় অংশ নিচ্ছে না।’

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বাবুইয়ের কর্ণধার কাদের বাবু বলেন, ‘মেলা বর্জন নয়, প্রকাশকদের চাওয়া ছিল একটি ‘সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা’। তাদের দাবি ছিল পবিত্র রমজান ও নির্বাচন–পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি পিছিয়ে ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করার জন্য, যখন পাঠকদের হাতে সময় ও অর্থ-উভয়ই থাকবে। কিন্তু যৌক্তিক এই দাবিগুলো উপেক্ষা করে এক প্রকার জোর করেই প্রকাশকদের একটি ব্যর্থ মেলার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যে মেলায় দেশের সামনের সারির প্রায় সব প্রকাশকসহ তিন শতাধিক মূলধারার প্রকাশক অংশ নিতে অপারগ।’

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।