বইমেলার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনড় অবস্থান, সম্মত নন প্রকাশকরা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১২ এএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সময় নির্ধারণ প্রসঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রকাশকদের প্রতিনিধিদলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ শুরু করার বিষয়ে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করা হয়েছে।

কিন্তু তাতে সম্মত নন প্রকাশরা। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি—নির্বাচনী বাস্তবতা, মেলার প্রস্তুতির জন্য আদৌ কোনো সময় না পাওয়া, প্রেসসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকা, মেলা শুরু হওয়ার পরপরই পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় ‘ঈদের পরে মেলা’ আয়োজনের বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্মত হয়নি।

প্রকাশকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প করোনা মহামারির সময় থেকেই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে গেছে। গত এক বছরের স্থবির অর্থনীতিতে বইয়ের বিক্রি একদমই হ্রাস পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিশ্চিত লোকসানের মুখে বিপুল পরিচালনা ব্যয়ের আরেকটি মেলায় অংশ নিতে অধিকাংশ প্রশাসক সম্মত নন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলায় প্রকাশকদের স্টল ভাড়ার ওপর ৫৫% মওকুফ করা হবে। তবে প্রকাশকদের পক্ষ থেকে ভাড়ার ১০০% মওকুফ এবং স্টল ও প্যাভিলিয়ন নির্মাণ ব্যয়ে সরকারি ভর্তুকি প্রদানের যে দাবি জানানো হয়েছিল, মন্ত্রণালয় তাতে অসম্মতি জ্ঞাপন বা অপারগতা প্রকাশ করেছে।

প্রকাশক ঐক্যের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকাশকদের মূল আপত্তি কেবল ‘ভাড়া’ নিয়ে ছিল না, তাদের আপত্তি ছিল মেলার ‘সময়সূচি’ নিয়ে। নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠন পরবর্তী সময়, রোজার বন্ধে পাঠকশূন্য মেলায় ৫৫% কেন, ১০০% ভাড়া মওকুফ করলেও প্রকাশকদের লগ্নিকৃত পুঁজি (বই ছাপা, কর্মীদের বেতন, ডেকোরেশন) উঠে আসবে না। একটি ‘প্রাণহীন’ মেলা আয়োজনের সরকারি সিদ্ধান্তের দায়ভার প্রকাশকরা নিতে পারবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকাশনা একটি শিল্প। এর আর্থিক হিসেব-নিকেশের ওপর কয়েক লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। মন্দার কারণে বহু প্রকাশক ব্যবসা সীমিত করতে এবং দক্ষ জনশক্তি ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলাদেশে প্রকাশনা শিল্পের সবচেয়ে বড় আয়োজন বইমেলা। এই আয়োজনে লোকসান হলে এরই মধ্যে রুগ্ন শিল্পটি একেবারে বিপন্ন হবে।

প্রকাশকরা জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তাদের অনুরোধ, বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের বাস্তবতা উপলব্ধি করে জাতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পটি রক্ষায় এগিয়ে আসা জরুরি।

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।