বইমেলার তৃতীয় দিন
শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সংগীত প্রতিযোগিতা, ৩৮ নতুন বই
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ছিল অমর একুশে বইমেলার তৃতীয় দিন। এ দিন সকাল ১১টায় মেলা শুরু হয়ে চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় ছিল শিশুপ্রহর। মেলায় এদিন নতুন বই এসেছে ৩৮টি।
সকাল সাড়ে ১০টায় বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্ব। এতে ৩৪৭ জন (ক শাখায় ৮২ জন, খ শাখায় ১৮৫ জন এবং গ শাখায় ৮১ জন) প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ মার্চ।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: আহমদ রফিক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসমাইল সাদী। আলোচনায় অংশ নেন মোস্তফা তারিকুল আহসান। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মনসুর মুসা।
ইসমাইল সাদী বলেন, আহমদ রফিক জীবনের অধিকাংশ সময়ই ব্যয় করেছেন বাংলাদেশের ভাষা ও সাহিত্য বিকাশে। প্রবন্ধ, কবিতা, গবেষণা, সাহিত্য সমালোচনা, নতুন লেখকদের পৃষ্ঠপোষকতা, সাহিত্যপত্রিকা সম্পাদনা, উদ্যোক্তা, সংগঠক—সব মিলিয়ে সৃষ্টি আর কর্মের এক অভূতপূর্ব সম্মিলন ঘটেছিল তার যাপিত জীবনে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে আহমদ রফিক ছিলেন সংগঠকের ভূমিকায়। এ পর্বে প্রতিটি সভা, মিছিল, প্রতিবাদী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
ইসমাইল সাদী আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনে যেমন আহমদ রফিক রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তেমনি সাহিত্য ও ইতিহাসচর্চার প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি অনুভব করতেন শৈল্পিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। সেই কারণে মননশীল সাহিত্য ও ভাষা আন্দোলন—বিষয়ক গ্রন্থ রচনায় তিনি ক্রমশ অনালোকিত বিষয় নির্বাচন করে তাতে চিন্তা ও গবেষণার আলো ফেলে গেছেন।
ছবি: বিপ্লব দিক্ষিৎ
মোস্তফা তারিকুল আহসান বলেন, ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ছিলেন একজন সৃজনশীল ও সংবেদনশীল মানুষ। তিনি একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, উদার ও মননসমৃদ্ধ জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখতেন। সামাজিক অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে মেধা ও সাহসী প্রত্যয় নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন তিনি। তার লেখকসত্তা তাকে সমাজ, রাষ্ট্র ও সাহিত্যের কাছে দায়বদ্ধ করে তুলেছিল। আর সেই দায়বদ্ধতা ও প্রেরণা থেকেই তিনি বহুবিচিত্র বিষয়ে কলম ধরেছেন।
অধ্যাপক মনসুর মুসা বলেন, আহমদ রফিক কেবল ভাষাসংগ্রামী ছিলেন না, তিনি জীবনসংগ্রামীও ছিলেন। মানুষের জীবনকে উন্নত করার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার বৈচিত্র্যময় সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।
‘লেখক বলছি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আহমাদ মাযহার। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কাজী বুশরা আহমেদ তিথি, ইশরাত শিউলি, জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা এবং নাসিম আহমেদ। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সালাউদ্দিন আহমেদ, শহীদ কবীর পলাশ, ইয়াকুব আলী খান, নন্দিতা মণ্ডল, অপর্ণা মজুমদার, নুসরাত জাহান জেরিন এবং মো. জাকির হোসেন আখের।
যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন বিশ্বজিৎ সরকার (তবলা), রবিনস চৌধুরী (কীবোর্ড), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), ফিরোজ খান (সেতার)।
আগামীকালের সময়সূচি
আগামীকাল রোববার (১ মার্চ) মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং শেষ হবে রাত ৯টায়। এদিন বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: হামিদুজ্জামান খান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন নাসিমুল খবির। আলোচনায় অংশ নেবেন আইভি জামান। সভাপতিত্ব করবেন লালারুখ সেলিম। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এমএমকে/