বইমেলায় শিশুদের ১৮৪ নতুন বই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১০ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অমর একুশে বইমেলায় বাজছে বিদায়ের সুর। শেষ মুহূর্তে এসে লেখক, দর্শনার্থী ও বইপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জমজমাট বইমেলা প্রাঙ্গণ।

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বাংলা একাডেমির ঘোষণা অনুযায়ী, মেলা শুরু হয়েছে বেলা ১১টা থেকে। আর শেষ হবে রাত ৯টায়। মেলায় বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহরের আয়োজন।

এবারের বইমেলায় বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত নতুন বই এসেছে ৪ হাজার ৩৯৪টি। এর মধ্যে শিশুতোষ বই এসেছে ১৮৪টি। বইমেলায় শিশুপ্রহর উপলক্ষে শিশু চত্বর ছিল প্রাণবন্ত। শিশুদের উল্লাসে উৎসবমুখর ছিল এখানকার পরিবেশ।

এদিকে অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিশু কর্নারে শিশুদের জন্য রয়েছে ৩৯টি স্টল। সেগুলোতে শিশুতোষ বই সাজানোর পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চের পাশে লেখা রয়েছে, ‘পৃথিবীটা দেখছি প্রতিদিন শিখছি প্রতিদিন’, ‘পড়ালেখার নতুন সুর চলো যাই সিসিমপুর’, ‘পড়ি বই, জানতে জানতে বড় হই’।

Fair-3.jpg

অন্যান্যদের পাশাপাশি বইমেলায় কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। অন্যদের গল্প-উপন্যাস বা কবিতার বইয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও ক্ষুদে বইপ্রেমী, কিশোর, তরুণদের একটি বড় অংশের বেশি আগ্রহ সায়েন্স ফিকশন বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর বইয়ের দিকে।

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বইমেলায় সায়েন্স ফিকশন বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর বই এসেছে ৫৮টি।

জানা গেছে, বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মধ্যে মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা বইগুলো জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। বইমেলায় এবারের সায়েন্স ফিকশন বইগুলোর মধ্যে রয়েছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের রহস্যময় ব্ল্যাক হোল, শফিকুল ইসলামের ট্রাইলিন, শাহেদ ইকবালের অন্ধ মাকড়শা, মিন্টু হোসেনের এলিয়েন, মোশতাক আহমেদের ইডিন, দীপু মাহমুদের হারাকিরি, মোশতাক আহমেদের নিঃসঙ্গ গিরি, সালমান ফরিদের রেবুলু জিরো জিরো ওয়ান, নাসিম সাহনিকের ল্যাংগুয়েজ হান্টার, বদরুল আলমের এক্স ওয়ার্ল্ডসহ আরও নানা বই।

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস নাফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বইমেলায় এসেছেন বাবা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেখতে দেখতে শেষ হয়ে এলো বইমেলা। ব্যস্ততার কারণে আজই প্রথম এসেছি। শিশুপ্রহর হওয়ায় সকাল সকাল মেয়েকে নিয়ে এসেছি। সে এ পর্যন্ত ৩টা সায়েন্স ফিকশনের বই কিনেছে। আরও অন্যান্য বই কিনতে চায়। তাই তো দুপুর পর্যন্ত মেলায় ঘুরবো। শিশুপ্রহরের আয়োজন আসলেই খুব ভালো পদক্ষেপ। এতে সন্তানদের নিয়ে ভালোভাবে বইমেলায় ঘোরা যায়।

Fair-3.jpg

এদিকে বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বইমেলায় নতুন বই এসেছে ৪ হাজার ৩৯৪টি। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ ৫৬৩টি, উপন্যাস ৬৭৬টি, প্রবন্ধগ্রন্থ ২৪৬টি, কাব্যগ্রন্থ ১৩৯৯টি, গবেষণাগ্রন্থ ১০৪টি, ছড়ার বই ৮৬টি, শিশুতোষ গ্রন্থ ১৮৪টি, জীবনীগ্রন্থ ১৩১টি, রচনাবলী ৮টি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ১৪১টি, নাটক ২৭টি, বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ ৭৩টি, ভ্রমণকাহিনী ৭৭টি, ইতিহাসগ্রন্থ ৮৩টি, রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ ১৩টি, চিকিৎসা-স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৩১টি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা গ্রন্থ ১২৬টি, রম্য-ধাঁধা ৩৬টি, ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থ ১৮টি, অনুবাদ সাহিত্য ৫১টি, অভিধান ১৪টি, সায়েন্স ফিকশন ৫৮টি এবং অন্যান্য বই এসেছে ২৪৯টি।

এবারে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৮ লাখ বর্গফুট জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বইমেলা। বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা এবারের মেলা প্রাঙ্গণে মুজিববর্ষ উদযাপনের ছোঁয়া রাখা হয়েছে। নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ। প্রিয় লেখকসহ মেলায় আসা নতুন বইগুলো দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন। অনেকে পছন্দের বই কিনছেন। আবার অনেকে বন্ধুদের নিয়ে দল বেঁধে মেলায় এসেছেন। ঘুরে দেখছেন বিভিন্ন স্টল। অনেকে আবার বই কিনে লেখকের অটোগ্রাফ নিয়ে তার সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। সবকিছু মিলিয়ে জমে উঠেছে এবারের বইমেলা।

এবারের বইমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৯টি স্টল ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৯৪টি স্টলসহ মোট ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চলবে এ মেলা।

এএস/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]