ফুচকাওয়ালা থেকে করপোরেট অফিস … প্রচুর টেক্সট আসে

মইনুল ইসলাম
মইনুল ইসলাম মইনুল ইসলাম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৩ এএম, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
সুষমা সরকার। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

নতুন ধারাবাহিকে কাজ করেছেন অভিনেত্রী সুষমা সরকার। নতুন বছরের ৩ তারিখে দীপ্ত টিভিতে দেখানো শুরু হবে ‘পরম্পরা’ নামের দীর্ঘ ধারাবাহিকটি। এরই মধ্যে কয়েকটি ধারাবাহিকে কাজ করে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন তিনি। অভিনয়, বিনোদন অঙ্গন ও নতুন বছরের প্রত্যাশা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

জাগো নিউজ: দর্শক কেন মেগা সিরিয়াল ‘পরম্পরা’ দেখবেন?
সুষমা সরকার: ‘পরম্পরা’ নামটাই খুব সুন্দর। দীপ্ত টেলিভিশনের সাথে এটা আমার দ্বিতীয় কাজ। এই কাজটা খুব ভালো লাগছে। ‘পরম্পরা’ তিন প্রজন্মের গল্প নিয়ে। আমার কাছে এই সময়ে এসে মনে হয়, পরম্পরা আসলে আমাদের পরিবারের জন্য জরুরি। আমাদের জাতীয় জীবনেও আসলে পরম্পরা খুব ইমপরটেন্ট। কারণ পরম্পরা না থাকলে … আসলে একজন মানুষের যে শেকড়, সেটা আসলে পরম্পরাই ধরে রাখে। অর্থাৎ সে কোন পরিবারের সন্তান এবং কোন পরিবারে বেড়ে উঠেছে, সেটা পরম্পরাই বলে দেয়। এক একটা পরিবারের পরম্পরায় একেক রকম ট্র্যাডিশন থাকে, সেই রকম একটা পারিবারিক গল্প এবং তিন জেনারেশনের মধ্যে যে জেনারেশন গ্যাপ ও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, সেগুলো নিয়েই মেগা সিরিয়াল ‘পরম্পরা’।

ফুচকাওয়ালা থেকে করপোরেট অফিস … প্রচুর টেক্সট আসে

জাগো নিউজ: আপনার তিনটা সিরিয়াল অলরেডি চলছে। যেমন ‘দেনাপাওনা’, এটা থেকে কেমন রেসপন্স পাচ্ছেন?
সুষমা সরকার: ‘দেনাপাওনা’ থেকে ভয়ংকর লেভেলের রেসপন্স পচ্ছি। যেখানেই যাই, চায়ের দোকান, ফুচকাওয়ালা থেকে শুরু করে করপোরেট অফিস বা দেশের বাইরে থেকেও প্রচুর টেক্সট আসে। তাদের একটাই কথা, নাটকের দৈর্ঘ্য কেন মাত্র ২০ মিনিট? আর সপ্তাহে কেন মাত্র দুদিন দেখানো হয়। যেহেতু আমি সেখানে একটা নেগেটিভ ক্যারেক্টার করেছি, তাই প্রচুর গালি খাই। তবে অনেক কাজের মধ্যে একটা ক্যারেক্টারের নাম ধরে চেনা একজন আর্টিস্টের জন্য অনেক বড় পাওয়া। মানুষ এখন আমাকে ‘মৌ ভাবী’ বলে ডাকে।

জাগো নিউজ: আপনাকে এখন মঞ্চেও নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। সেখানকার অবস্থা কী?
সুষমা সরকার: পলিটিক্যাল সিচুয়েশনের কারণে মঞ্চের রেসপন্স একটু কম। শীতের এই মৌসুমে নাটক বা কনসার্ট বেশি হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে দর্শক কিছুটা কম হচ্ছে। তবে মঞ্চে অনেক ভালো কাজ হচ্ছে। সিনেমায় আমাকে কম দেখা যাওয়ার কারণ হলো, বর্তমানে সিনেমাগুলো অনেক বেশি মেল ডমিনেটিং (পুরুষ প্রধান)। যেমন শাকিব খান, নিশো বা সিয়ামকে নিয়ে সিনেমা হচ্ছে, যেখানে নারী চরিত্রের তেমন কাজ নেই বললেই চলে। এ ছাড়া আমার বয়সের ক্যারেক্টারের জন্য অনেক কম্পিটিশন থাকে। তাই ভালো ক্যারেক্টার না হলে সিনেমা করা হয়ে ওঠে না।

ফুচকাওয়ালা থেকে করপোরেট অফিস … প্রচুর টেক্সট আসে

জাগো নিউজ: তবে কি সিনেমায় কাজ করছেন না?
সুষমা সরকার: করছি। এরই মধ্যে দুটো সিনেমায় কাজ করেছি। একটা ‘সলতে’, পলান সরকারকে নিয়ে, পরিচালনা করছেন জহির রায়হান। আর একটা হচ্ছে শিশুতোষ চলচ্চিত্র, ‘নদাই’। এই দুটো কাজ শেষ করেছি। কবে আসবে বলতে পারছি না।

জাগো নিউজ: নতুন বছরে আপনার প্রত্যাশা কী?
সুষমা সরকার: প্রত্যাশা হচ্ছে, বাংলাদেশটা একটা শান্তির দেশ হোক, একটা সুস্থ পরিবেশ হোক, যাতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় না ভুগি। হিংস্রতা, বিদ্বেষ বা ধ্বংসাত্মক কিছু চাই না। একটা দেশ যখন শান্তিতে থাকবে এবং সিস্টেমেটিকভাবে চলবে, তখন সাধারণ মানুষ স্বস্তি নিয়ে বাঁচতে পারবে। মানুষের জীবনে অনেক বেশি চাওয়া নেই, সুন্দর করে শান্তিতে হাসি-খুশি নিয়ে সুখীভাবে জীবন যাপন করা, এটুকুই রাষ্ট্র আমাদের দিক — এটাই চাওয়া।

আরও পড়ুন: 
সুষমার সুসময়
দহন ছবিতে এবার সুষমা

এমআই/আরএমডি/এমএমএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।