না দেখেই ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে ইমরান হাশমি

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
বিতর্কে ইমরান হাশমি

বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি আবারও শিরোনামে। তবে নতুন কোনো চরিত্র বা কাজের জন্য নয়। সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে তার একটি মন্তব্য। যে সিনেমাটি তিনি নিজেই দেখেননি সেই ‘ধুরন্ধর’র সমালোচকদের তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান হাশমি বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পে একটি ‌‘আবর্জনা মানসিকতা’ কাজ করে। তার ভাষ্য, কোনো সিনেমা ভালো ব্যবসা করলে সেটিকে ছোট করার প্রবণতা রয়েছে অনেকের মধ্যে। তার মতে, একটি ছবি বক্স অফিসে সফল হলে সবার খুশি হওয়া উচিত। কারণ এতে ইন্ডাস্ট্রির অর্থনীতি সচল থাকে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার দীর্ঘ একটি সিনেমা দর্শকরা মধ্যরাত কিংবা ভোরের শোতেও দেখতে যাচ্ছেন। এটাই প্রমাণ করে ছবিটির বিপণন কৌশল কতটা সফল।

আরও পড়ুন
সমালোচনার মাঝেও বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে প্রভাসের ‘দ্য রাজাসাব’
বুকে ‘কাপুর’ লিখে নজর কাড়লেন আলিয়া

তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ইমরান হাশমি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি দেখেননি। তবুও তিনি ছবিটিকে ‘দারুণ’ বলে মন্তব্য করেছন। দুই পর্বে নির্মিত দীর্ঘ দৈর্ঘ্যের এই সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যে মুগ্ধতাও প্রকাশ করেন। তার যুক্তি, ‘যদি মানুষ টিকিট কেটে সিনেমা দেখে তাহলে সমালোচনার অধিকার কার?’

এই বক্তব্য বলিউডের পুরোনো এক ধারণাকেই সামনে আনে। যেখানে সিনেমার মানের চেয়ে দর্শকের সংখ্যাই সব প্রশ্নের জবাব হয়ে যায়। ‘ধুরন্ধর’ কেবল একটি ব্যবসাসফল সিনেমা নয়; এটি সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বিতর্কিত ভারতীয় চলচ্চিত্রগুলোর একটি। সেই ছবিকে অন্ধের মতো সমর্থনস করায় ইমরান হাশমিও বিতর্কে এসেছেন।

ভারতে রেকর্ড আয় করে এটি হিন্দি ভাষার সর্বাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় পরিণত হয়েছে ‘ধুরন্ধর’। একই সঙ্গে এই সিনেমা অক্ষয় খান্নাকে বড় বক্স অফিস মাইলফলক এনে দিয়েছে এবং রণবীর সিংকে আবারও নির্ভরযোগ্য তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে ছবিটি তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মুক্তির পর থেকেই অনেক দর্শক ও বিশ্লেষক একে আদর্শিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদ, আঞ্চলিক রাজনীতি ও ইতিহাসের উপস্থাপন নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান; দুই দেশেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

অভিনেতা হৃতিক রোশন প্রকাশ্যে সিনেমাটির রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। তিনি জানান, নির্মাণশৈলীকে সম্মান করলেও ছবির বার্তার সঙ্গে তার দ্বিমত থাকতে পারে। এই মন্তব্যও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। অভিযোগ রয়েছে, পাকিস্তানবিরোধী বার্তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে সিনেমাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার বেলুচ জনগোষ্ঠীকে ঘিরে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে নির্মাতাদের একটি শব্দ নীরব করতে হয়েছে।

কেউ কেউ সিনেমাটিকে দুর্দান্ত বিনোদন হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকের মতে এটি জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অতিসরল দেশপ্রেমে রূপ দেওয়ার একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।

এই প্রেক্ষাপটে ইমরান হাশমির মন্তব্য অনেকের কাছে শিল্পস্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নয় বরং বলিউডের পরিচিত আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া বলেই মনে হচ্ছে। যেটা বলছে, ‘বিক্রি হলে প্রশ্ন তোলার দরকার নেই।’

 

এলআইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।