করাচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাকিস্তানি তারকাদের ক্ষোভ

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগ্রহ

পাকিস্তানের করাচির বিখ্যাত বিল্ডিং গুল প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে বলে জানা গেছে। সেইসঙ্গে অসংখ্য দোকানদারের সম্পদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। দমকলকর্মীদের ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে।

এ অগ্নিকাণ্ডে দেশটির অনেক তারকা শোকাহত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মর্মস্পর্শী বার্তা দিয়েছেন। তারা শহরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। অনেকে করেছেন সরকারের সমালোচনাও।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দোয়া পাঠ করেছেন সংগীতশিল্পী শা গিল। মহিরা খান প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এ কি এক দুর্ঘটনা নাকি দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদাসীনতা?’ তিনি জানান, শহরের অধিকাংশ ভবনে মৌলিক অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই।

অভিনেত্রী আয়েশা ওমার বলেন, ‘করাচির মানুষ এ ধরনের দুর্দশা পাওয়ার যোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘এমন অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার পরেও মানুষ এ ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে।’

দুরেফিশান সালিমও একমত। তিনি বলেন, ‘শহরের মানুষের জন্য সত্যিকারের কাজ করে এমন সরকার প্রয়োজন।’

অন্যরা দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। ফাতিমা ভুট্টো উল্লেখ করেছেন, ‘আগেও কতবার সুযোগ ছিল সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার, কিন্তু তা হয়নি।’

হাদিকা কিয়ানি বলেন, ‘সময় এসেছে করাচি ও পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকায় জীবনরক্ষাকারী অবকাঠামো শক্তিশালী করার।’

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানোদের পরিবারের এবং বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের ব্যথার কাহিনি সামনে এসেছে। সংগীতশিল্পী হারুন শাহিদ জানান, তার ছেলে যে শিক্ষকের কাছে পড়ে তার পরিবার ভবনের মধ্যে আটকা পড়েছে।

অভিনেত্রী সাজল আলী, আইমান খান ও গায়ক সামার জাফরি নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন। অভিনেত্রী ঝালাই সারহাদি এবং কমেডিয়ান আলীগুল পির মৃত ও আহতদের জন্য প্রার্থনা করেছেন।

র‌্যাপার ইভা বি এবং অভিনেত্রী মিনাল খান গুল প্লাজার স্মৃতি ভাগাভাগি করেছেন। মিনাল মন্তব্য করেছেন, ‌‘করাচির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারছে। যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। হানিয়া আমির, ইয়াসমা গিল এবং নির্মাতা আদনান মালিক বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং আগুনের নিরাপত্তা মানদণ্ডে অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

উপস্থাপিকা আনুশে আশরাফ করাচির নাগরিকদের যন্ত্রণা ও লাহোরের ধনী অনুষ্ঠানকে তুলনা করে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে অভিনেত্রী সাবুর আলী শুধু ঈশ্বরের দয়া কামনা করতে পেরেছেন।

জানা গেছে, প্রায় ৬৫ জন এখনও নিখোঁজ, যার ফলে আরও মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেরি করা প্রতিক্রিয়া এবং সীমিত সম্পদ আগুনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই দুর্ঘটনা আগুনের নিরাপত্তা বিধি এবং তার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি সচেতনতার ঘড়ি হওয়া উচিত। তবে ধোঁয়া মুছে যাওয়ার পর কতটুকু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সময়ই বলবে।

 

এলআইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।