সংগ্রাম ও দুঃসময় পেরিয়ে যেভাবে সংগীতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন বাপ্পা মজুমদার

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৬ এএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাপ্পা মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের জন্মদিন আজ (৫ ফেব্রুয়ারি)। মঞ্চের আলো, দর্শকের ভালোবাসা আর অসংখ্য জনপ্রিয় গানের পেছনে লুকিয়ে আছে তার জীবনের কঠিন সংগ্রামের গল্প।

বাপ্পার জন্ম এক সংগীতনিবেদিত পরিবারে। তার বাবা পণ্ডিত বারীণ মজুমদার ছিলেন প্রখ্যাত সংগীতসাধক। বাড়িতে সারাক্ষণ চলত রেওয়াজ-কখনো বাবার, কখনো শিষ্যদের। ছোটবেলা থেকেই সংগীত যেন তার চারপাশের স্বাভাবিক পরিবেশ ছিল। এই আবহেই বড় হয়েছেন বাপ্পা।

তবে শৈশবটা সবসময় মসৃণ ছিল না। একসময় পরিবারকে হঠাৎ করেই মিউজিক কলেজের বাসস্থান থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাসায় ফেরার পর গ্রেপ্তার হন পণ্ডিত বারীণ মজুমদার। অনিশ্চয়তা আর আর্থিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবারটি।

এই কঠিন সময়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন বাপ্পার মা ইলা মজুমদার। চাকরি নিয়ে সন্তানদের মানুষ করার লড়াইয়ে নামেন তিনি। বাপ্পা পরবর্তীতে বারবার বলেছেন, তাদের পরিবার টিকে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার মায়ের। তার ভাষায়, ইলা মজুমদার শুধু মা নন, এক অসাধারণ শক্তির প্রতীক।

সংগ্রামের মধ্যেও সংগীতচর্চা থেমে থাকেনি। বাবার সাধনা, মায়ের ত্যাগ আর সাংস্কৃতিক পরিবেশ- সব মিলিয়ে বাপ্পার শিল্পীসত্তার ভিত তৈরি হয় সেখান থেকেই। পরবর্তীতে ব্যান্ডসংগীত, একক গান, সুর ও সংগীত পরিচালনায় নিজস্ব ধারা তৈরি করেন তিনি।

পণ্ডিত বারীণ মজুমদার ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ২০০২ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন-যা এই সংগীত পরিবারটির অবদানের স্বীকৃতি।

আরও পড়ুন:
শবে বরাত উপলক্ষে জায়েদ খানের প্রার্থনা
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতা: রাজিব

আজ জন্মদিনে বাপ্পা মজুমদার শুধু জনপ্রিয় শিল্পী নন, বরং সংগ্রাম পেরিয়ে উঠে আসা এক অনুপ্রেরণার নাম। তার জীবন দেখায়-দুঃসময় যত কঠিনই হোক, সাধনা আর ভালোবাসা থাকলে সুরই হতে পারে টিকে থাকার শক্তি।

এমএমএফ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।