আইয়ুব বাচ্চুর একুশে পদক প্রাপ্তি, স্ত্রীর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইয়ুব বাচ্চু ও ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা রকসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হচ্ছেন কিংবদন্তি ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননার তালিকায় তার নাম ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে চন্দনা লিখেছেন, এই সম্মাননা শুধুমাত্র আইয়ুব বাচ্চুর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। প্রয়াত এই সংগীত তারকা গিটার হাতে আর ভক্তদের মাঝে নেই, কিন্তু তার সুর ও গান আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সারাজীবন সংগীতের জন্য উজাড় করে দেওয়া এই শিল্পী বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে, এমনকি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যেও বেঁচে থাকবেন। চন্দনা সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই সম্মাননার জন্য।

আইয়ুব বাচ্চু মাত্র ৫৬ বছর বয়সে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। তবে রেখে গেছেন অসংখ্য কালজয়ী গান- ‘সেই তুমি’, ‘এক আকাশে তারা’, ‘ফেরারি মন’, ‘আমি বারো মাস’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘রূপালী গিটার’সহ আরও অনেক শ্রোতাপ্রিয় সৃষ্টি।

১৯৮৩ সালে মাত্র ৬০০ টাকা নিয়ে ঢাকায় এসে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য সাধনায় নিজেকে দেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম শীর্ষ তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। গিটারের ঝংকারে মুগ্ধ করেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কনসার্টে তার সঙ্গে একসঙ্গে কণ্ঠ মেলাতেন হাজারো ভক্ত। ‘এবি’ কিংবা ‘বস’-দুই নামেই সমান জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।

চট্টগ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর সংগীতযাত্রা শুরু মাত্র ১৬ বছর বয়সে। আশির দশকের শুরুতে যোগ দেন ব্যান্ড ‘সোলস’-এ এবং ‘সুপার সোলস’, ‘কলেজের করিডোরে’ ও ‘মানুষ মাটির কাছাকাছি’ অ্যালবামে কাজ করেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’।

পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে তিনি নিজের ব্যান্ড ‘এলআরবি’ গড়ে তোলেন। ১৯৯১ সালে দেশের সংগীত ইতিহাসে প্রথম ডাবল অ্যালবাম হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘এলআরবি ১’ ও ‘এলআরবি ২’। একই সময়ে ‘কষ্ট’ অ্যালবামটি তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। নব্বই দশকজুড়ে তার সঙ্গীতপ্রভাব তুঙ্গে ছিল, তবে ব্যক্তিজীবনে ছিলেন সাদামাটা ও সহজ-সরল।

আরও পড়ুন:
ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতা: রাজিব 
আবারও বাবা হলেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’র পলাশ 

মৃত্যুর সাত বছর পর মরণোত্তর একুশে পদক প্রাপ্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে ভূষিত হলেন এই রক আইকন। সংগীতপ্রেমীদের কাছে আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন শিল্পী নন, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম।

এমএমএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।