৭৯ বছরে মেগাস্টার উজ্জল, চমকে দিলেন নায়ক আলমগীর
বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক মেগাস্টার উজ্জ্বলের জন্মদিন আজ। এবারে তিনি ৭৯ বছরে পা রাখলেন। তার জীবনের বিশেষ দিনটিকে ঘিরে আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেলটির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘তারকা কথন’-এর বিশেষ পর্বে অতিথি হিসেবে হাজির হন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণ, আবেগঘন মুহূর্ত আর সহশিল্পীদের ভালোবাসায় ভরে ওঠে দিনটি।
অনুষ্ঠানের আগে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন উজ্জ্বল। এসময় ফুল দিয়ে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তিনি। বিশেষ দিনে এমন সম্মান পেয়ে উজ্জ্বল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
‘তারকা কথন’-এ কথা বলতে গিয়ে উজ্জ্বল বলেন, চ্যানেল আই সবসময় শিল্পীদের আপনজনের মতো পাশে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, সফলতা কিংবা ব্যর্থতা, সবসময়ই শিল্পীদের এক পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখে এই প্রতিষ্ঠান। এমন আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে চমকপ্রদ মুহূর্ত আসে লাইভে অভিনেতা আলমগীরের ফোনে। হঠাৎ ফোন পেয়ে উজ্জ্বল আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দু’জনের মধ্যে বয়স নিয়ে মজার খুনসুটি হয়, যা দর্শকদেরও আনন্দ দেয়।
আলমগীরকে নিয়ে উজ্জ্বল বলেন, তিনি শুধু একজন অসাধারণ অভিনেতাই নন, ব্যক্তিগতভাবেও খুব কাছের মানুষ। পর্দায় একসঙ্গে কাজের সুযোগ না হলেও অফস্ক্রিনে তাদের সম্পর্ক সবসময়ই আন্তরিক ছিল। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
১৯৪৮ সালের ২৮ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জন্মগ্রহণ করেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনার সময় থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।
মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রয়াত নির্মাতা সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বিনিময়’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। অন্ধ চরিত্রে অভিনয় করে প্রথম সিনেমাতেই দর্শকদের নজর কাড়েন।
কবরীর সঙ্গে উজ্জ্বল
চলচ্চিত্র নায়ক হিসেবে নায়ক উজ্জ্বল নায়িকা হিসেবে পেয়েছেন শাবানা, কবরী, ববিতা, রোজিনা, সুজাতা, সুচরিতাসহ অনেককে। সেই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৭০ সালে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। সেই সময় প্রয়াত সুভাষ দত্ত আমাকে ‘বিনিময়’ সিনেমায় নায়ক বানান। নায়িকা ছিলেন কবরী। তারপর শাবানা ও ববিতাসহ অনেক নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করেছি। সবার সঙ্গেই সুন্দর সম্পর্ক ছিলো।’
এরপর ‘নসীব’, ‘দুটি মন দুটি আশা’, ‘অচেনা অতিথি’, ‘বাংলার মুখ’, ‘ঘর সংসার’, ‘অনুরাগ’, ‘কুদরত’, ‘অপরাধ’, ‘পিঞ্জর’, ‘দোস্তী’সহ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে।
অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে রেখে গেছেন অনন্য অবদান।
ব্যক্তিজীবনে তিনি মেরিনা আশরাফের স্বামী ছিলেন। ২০২১ সালের অক্টোবরে তার স্ত্রী মারা যান। তাদের দুই সন্তান মেহবুব আশরাফ ও তানজিনা ফেরদৌস জেবিন।
এলআইএ