বাকের ভাইয়ের উপস্থাপনায় জুয়েল আইচ
যাদু সম্রাট হিসেবেই এ দেশের মানুষের কাছে পরিচিত জুয়েল আইচ। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও উড়ে তার জনপ্রিয়তার নিশান।
দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বরেণ্য ব্যক্তিদের বর্তমান জীবন এবং অতীত কর্মকান্ডের কথোপকথন নিয়ে দেশ টিভির ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ‘বেলা অবেলা সারাবেলা’। জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন বাকের ভাইখ্যাত দর্শকনন্দিত অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর।
এবারের পর্বে অনুষ্ঠানটিতে অতিথি হয়ে এসেছেন জুয়েল আইচ। অতিথি তার যাপিত জীবনের বিভিন্ন কথা তুলে ধরবেন এ অনুষ্ঠানে। থাকবে অতিথির বিগত দিনের সব কাজ, বর্তমান অবসরের ফুটেজ, তারকার কাছের মানুষদের মন্তব্য। অনুষ্ঠানটি শনিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রচারিত হবে দেশ টিভিতে।
প্রসঙ্গত, জুয়েল আইচের জন্ম ১৯৫০ সালের ১০ এপ্রিল বরিশালে। তবে তার শৈশব কেটেছে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সমুদয়কাঠি গ্রামে। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়। পরে তিনি পিরোজপুর শহরে চলে আসেন। সেখানকার সরকারি হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি. এবং স্থানীয় কলেজ থেকে এইচ.এস.সি. পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।
এই গুণী শিল্পী যখন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র তখন শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ঢাকা ছেড়ে চলে গেলেন গ্রামে। সেখানে শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করলেন তাঁর কর্মজীবন। কিছুদিন পর শিক্ষকতা ছেড়ে ঢাকায় ফিরে এসে নিজেকে জড়ালেন যাদু শিল্পে।
জুয়েল আইচ মঞ্চে প্রথম জাদু প্রদর্শন করেন ১৯৭২ সালে। এরপর মিডিয়ায় প্রথম জাদু প্রদর্শন করেন ১৯৭৯ সালে। প্রথমদিকে এক ধরনের ভালোলাগা থেকেই জাদু ক্ষেত্রে তার বিচরণ শুরু হয়। কিন্তু একটা সময় তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেন। বাংলাদেশের মাথা উঁচু করার হাতিয়ার হিসেবে এই ক্ষেত্রকে বেছে নেন তিনি। এরপরের ইতিহাস কেবল সামনে চলার।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই গুণী শিল্পী একুশে পদকসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।
জুয়েল আইচের রয়েছে বিশাল সংগ্রহ ভাণ্ডার। এ সংগ্রহশালার অধিকাংশই বই। এর মধ্যে যাদুর বইতো আছেই, আরো আছে বিচিত্র ধরনের হাজার হাজার বই। আরেকটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রচুর ভিডিও ও অডিও ক্যাসেট, ডিভিডি এবং সিডি। এর অধিকাংশই ক্লাসিক কিংবা ক্লাসিক্যাল।
তার সংগ্রহের ব্যতিক্রমী বিষয় হলো বাঁশি। নিজে আবিষ্কার করেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার একটি বাঁশি। পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া এই বাঁশির নাম রেখেছেন ‘জুয়েল বাশি’।
তবে তাঁর সবচেয়ে বড় সংগ্রহ যাদুর সরঞ্জাম। প্রতিনিয়ত গবেষণা করে নতুন নতুন আবিষ্কার করেই চলেছেন এই আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন যাদুকর।
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৫ সালে বিপাশা আইচের সাথে তার দাম্পত্য জীবনের আরম্ভ। স্ত্রী বিপাশা একদিকে অর্ধঙ্গীনি অন্যদিকে তাঁর যাদুর সহযাত্রীও। এ তারকা দম্পতির ভালবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় করেছে তাদের একমাত্র মেয়ে খেয়া।
এলএ/আরআইপি