দর্শক শোরগোল নেই, ঠাঁয় দাঁড়িয়ে বাগেরহাটের ২ সিনেমা হল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ১১:৩৪ এএম, ০৩ এপ্রিল ২০২১

বাগেরহাট জেলায় সাতটি সিনেমা হলের মধ্যে জেলা শহরের দুটির অস্তিত্ব দৃশ্যমান। তবে দর্শক খরার কারণে বন্ধ থাকায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছে হল দুটি।

হল মালিকরা জানান, সরকারি অনুদান পেলে আবারও দাঁড়াতে পারে হলগুলো। হলের পরিবেশ আধুনিকায়ন করা হলে মিলবে দর্শকও।

বাগেরহাট শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী কাজী সায়েম উদ্দিন ১৯৩৯ সালে রেড রোড এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন লাইট হল। যা ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে।

অন্যদিকে, শহরের দাসপাড়া এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জেলা কার্যালয়ের সামনে ভগ্নদশা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মনিকা। পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা মকবুল মল্লিকের উদ্যোগে নির্মাণ হয় মনিকা। ১৯৮৪ সালে বাগেরহাট জেলা হওয়ার এক বছর পর ১৯৮৫ সালের ২৪ আগস্ট বাগেরহাটের প্রথম জেলা প্রশাসক মো. রেজওয়ানউল হক এটির হলের উদ্বোধন করেন।

এ হলের প্রথম ছবি নায়ক ওয়াসিম ও নায়িকা অঞ্জুঘোষের ‘চন্দন দীপের রাজকন্যা’। সে সময় ছবিটি দেখেছেন হাজার হাজার দর্শক। টানা কয়েক সপ্তাহ চলেছিল ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’ ছবিটি। তবে এখন আর চালু নেই হলটি।

এছাড়া জেলার চিতলমারীর বুলবুলি, মোল্লাহাটের সুরভী, ফকিরহাটের মিতালি ও নিপ্পন সিনেমা হল ছাড়াও মোংলাবন্দর এলাকায় এক সময় সিনেমা হল চালু ছিল। এখন শুধু মুখে মুখেই রয়েছে এসব প্রেক্ষাগৃহের কথা।

jagonews24

অব্যাহত লোকসানের কারণে ১৫ বছর আগেই জেলার এসব হল বন্ধ হয়েছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর হলগুলো ভেঙে এখন গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বাজার।

হল মালিকদের দাবি, অতিরিক্ত শুল্ক, বিদ্যুতের দাম এবং অশ্লীলতার কারণেই দর্শক হল ছেড়েছে। ফলে অব্যাহত লোকসান গুণতে গুণতে মালিকরা বাধ্য হয়েই বন্ধ করেছেন হল।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মনিকা হলে গিয়ে দেখা গেছে, প্রবেশের রাস্তাটি সরু হয়ে গেছে। হলের সামনের দিকটা অপেক্ষাকৃত ভালো। প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে মালিক অনেকটা গুদাম হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের কাছে। দর্শকদের বসার সিটের বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্রাদিতে মরিচা ধরার অবস্থা।

মনিকা হল সংলগ্ন বাসিন্দা শংকর পালের এক সময় দুপুর ১২টার শোতে ছবি দেখার নেশা ছিল। নতুন ছবি আসলেই তিনি বন্ধুদের নিয়ে দেখতেন। কিন্তু অশ্লীলতা বেড়ে যাওয়ায় ছেড়েছেন ছবি দেখা।

মনিকা হলের মালিক মইনুল মল্লিক জানান, বাবা মকবুল মল্লিক মারা যাওয়ার পর তিনিই হল পরিচালনা করে আসছেন। জেলায় আর কোনো সিনেমা হল চালু না থাকায় বিশেষ করে ঈদের কদিন দর্শকরা ছবি দেখতে আসতো মনিকায়। নানা কারণে দর্শকদের আনাগোনা কমে গেছে। এখন ভালো মানের ছবির পাশাপাশি হলের আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। এর জন্য প্রচুর অর্থ দরকার।

তিনি আরও জানান, এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সরকার যদি সহজ শর্তে অর্থের যোগান দেয় তাহলে সিনেমা হল চালু করা সম্ভব। ভালো মানের ছবি নির্মাণে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি ভারতীয়সহ অন্য ছবি হলে চালানোর অনুমতি দিতে হবে।

jagonews24

দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিবেন দাস বলেন, ‘হলের আসন ব্যবস্থা সুন্দরসহ অত্যাধুনিক সিস্টেম চালু করলে সিনেমা হলে আবারও দর্শক ফিরবে। পাশাপাশি মানসম্মত ছবিও দরকার। একটা সময় পরিবারের সবাই সিনেমা হলে ছবি দেখার রেওয়াজ ছিল। নানা কারণে সেটিতে ভাটা পড়ে শূন্যে নেমেছে। সুস্থ বিনোদনের জন্য এটা ফিরিয়ে আনা দরকার।’

আরেক বাসিন্দা অলিপ শেখ বলেন, ‘লাইট হলটি নামে মাত্র দাঁড়িয়ে থাকলেও আসনসহ সব কিছু খুলে ফেলে মালিক সেখানে অন্য ব্যবসা করছে। জেলার মধ্যে একমাত্র মনিকা সিনেমা হলে পাঁচ বছর আগেও ঈদের সময় ছবি চলেছিল। কয়েক বছর ধরে তাও বন্ধ। এখন সেখানে ভাঙরিরা তাদের মালামাল রাখে।’

লাইট হলের মলিক কাজী মনছুর টিপু বলেন, ‘অব্যাহত লোকসানের কারণেই ২০০৯ সালের মে মাসে হলটি বন্ধ করেছি। অনেক পুরাতন আসন ব্যবস্থা ভেঙে নষ্ট হওয়ায় তা তুলে সেখানে বালু ফেলে হলরুম উঁচু করা হয়েছে অন্য কাজের জন্য।’

শওকত আলী বাবু/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]