ফুড কার্ভিংয়ে স্বপ্ন বুনছেন জসিম
ফুড কার্ভিংয়ের সঙ্গে বর্তমানে কমবেশি সবাই পরিচিত। বিভিন্ন ফল-সবজির উপরে বা ভেতরের অংশ কেটে নানান শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলা হয়। এর বেশ চাহিদাও রয়েছে সৌখিন মানুষদের কাছে। অনেকে বিয়ে, গায়েহলুদ কিংবা কোনো আয়োজনে এধরনের ফল-সবজি পরিবেশন করতে পছন্দ করেন।
এই ফুড কার্ভিংয়েই স্বপ্ন বুনছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর নবীগঞ্জ এলাকার মো. জসিম। তিনি তার কল্পনার জগতে আঁকা সব শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলছেন বিভিন্ন ফল ও সবজিতে। বাস্তবে তার শিক্ষক না থাকলেও তিনি নিজেই যেন নিজের শিক্ষক। প্রথমে তিনি তার কল্পনায় শিল্পকর্ম আঁকেন এরপর ধারালো ছুরি, কাটার ব্যবহার করে ফল ও সবজিতে বাইরের অংশ বা ভেতরের অংশ কেটে আকর্ষণীয় শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলেন।
যা রেস্তোরাঁ, হোটেল, ক্যাটারিং ও ইভেন্টগুলোতে সুন্দর গার্নিশ ও সেন্টারপিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি খাবারের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং অতিথিদের মুগ্ধ করে তোলে। বিশেষ করে বিয়ে ও গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে ফুড কার্ভিংয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এটি একটি লাভজনক ক্যারিয়ারও বটে। দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলছে। আর এই ফুড কার্ভিংয়ের মাধ্যমেই মো. জসিম তার ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
তার দাবি, তিনিই প্রথম নারায়ণগঞ্জে এই ফুড কার্ভিংয়ে কাজ শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি বেশ ভালোই সাড়া পাচ্ছেন। তার মতে, বেকার বসে না থেকে ভালোভাবে কাজ শিখে কিছু করতে পারলে ভালো ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব।
মো. জসিম বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে এই কাজ করে আসছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এরকম সাজানো ফল দেখতাম। যা আমাকে বেশ অবাক করত। তারপর আমি নিজেই চেষ্টা করি বাড়িতে। ধীরে ধীরে কাজটা শিখে ফেলি। নিজের চিন্তা থেকেই এই কাজটা করা। অন্য ডিজাইনার থেকে একটু ভিন্নভাবে এই কাজটা করতে চেষ্টা করি। কোথাও প্রশিক্ষণ নেইনি। নিজে থেকেই অনুশীলন করতাম। কীভাবে আরও সুন্দর করা যায় সবসময় সেই চর্চা করি। আমার কাজ দেখে ক্রেতারা খুব খুশি হয়। বর্তমানে বেশ ভালোই সাড়া পাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আমিই প্রথম ফুড কার্ভিংয়ের কাজ শুরু করি। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পার্টিতে এই কাজগুলো করি। কেউ যদি শিখতে চায় তাহলে আমার কাছে শিখতে পারবে। এটা ভালো একটা ব্যবসা। বেকার বসে না থেকে কাজগুলো শিখতে পারলে কর্মসংস্থান হবে। দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় ভালো মূল্যায়ন রয়েছে এই কাজের। দিন দিন এর চাহিদাও বাড়ছে।’
মো. জসিম বলেন, ‘এই কাজের মধ্য দিয়ে মনের মধ্যে একটা প্রশান্তি আসে। যখন কাজটা ভালোভাবে শেষ করি তখন দেখতে বেশ সুন্দর লাগে। অন্যরাও প্রশংসা করে। যা শুনে মনের মধ্যে আনন্দ কাজ করে এবং কাজের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।’
জসিমের বাবা মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘প্রথমে তার এই কাজ আমাদের কাছে ভালো লাগতো না। মনে করতাম অযথা সময় নষ্ট করছে। কিন্তু তার কাজ দেখলাম অনেক সুন্দর হয় এবং অন্যদের কাছেও ভালো লাগে। সেইসঙ্গে দিন দিন তার কাজের চাহিদাও বাড়ছে। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গা থেকেই অর্ডার আসে। তার স্বপ্ন পূরণ হোক সেই প্রত্যাশা করি।’
নারায়ণগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক হাসিনা মমতাজ বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষণের তালিকায় ফুড কার্ভিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তারপরও তার কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা তাকে সহযোগিতা করতে পারব। আর এটা সে নিজ থেকেই শিখেছে। সে আমাদের যুব সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা।
আরও পড়ুন
সেলাই মেশিনে ভাগ্য বদলানো সান্ত্বনা শত নারীর অনুপ্রেরণা
বুড়াগৌরাঙ্গ: জলস্রোতে চলে জনপদের জীবনতন্ত্র
মোবাশ্বির শ্রাবণ/কেএসকে