ঈদে অসহায় মানুষের প্রতি কর্তব্য

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৭ এএম, ২০ মার্চ ২০২৬
ঈদ শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব, এবং সামাজিক দায়িত্বের একটি বড় শিক্ষা

 

মির্জা ফারিহা ইয়াসমিন (স্নেহা)
ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব, এবং সামাজিক দায়িত্বের একটি বড় শিক্ষা দেয়। এক কাতারে দাঁড়িয়ে সব শ্রেণীর মানুষ ঈদের সালাত আদায় করতে হয়। তেমনি সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের কে জাকাত-ফিতরা দান করলে ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়।

আমরা যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল তারা নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবারের মাধ্যমে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারি। কিন্তু আমাদের আশপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা তিনবেলা ঠিকমতো খাবার পান না। তারা কীভাবে ঈদের জন্য বাজার করবে। আবার অনেকের এই দুনিয়ায় কেউ নেই। তাদের জন্য ঈদ উদযাপন করা অনেক কষ্টের বিষয় এমনই একজন পথশিশু রহিম। তার বাবা-মা মারা গেছে অনেক বছর আগে। সে দাদির কাছে থাকত কিন্তু গতবছর তার দাদি ও মারা গেছে। রেলস্টেশনে কখনো পানি আবার কখনো মাস্ক বিক্রি করে চলে তার জীবন জীবিকা। এই ঈদে এখনো তার কোনো পোশাক কেনা হয়নি। যদি কেউ তাকে নতুন কাপড় দেয় তাহলে তা পরেই ঈদের নামাজ পড়তে পারবে। না হলে পুরোনো ছেড়া পাঞ্জাবি পরেই কাটবে তার ঈদ।

বৃদ্ধ রিকশাচালক আবুল মিয়া। অসুস্থ স্ত্রীর জন্য ৮৫ বছর বয়সেও রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার সন্তানরা তাদের দেখাশোনা করেন না। রিকশা চালিয়ে যে অর্থ উপার্জন হয় তা স্ত্রীর চিকিৎসা করাতেই শেষ হয়ে যায়। কখনো তিনবেলা খাবার জোটে আবার কখনো না খেয়ে দিন পার করতে হয় এই দম্পতি কে। সেখানে ঈদের বাজার করা তার জন্য বিলাসিতা ছাড়া কিছু না।

খালেদা বেগম একজন অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী। ঈদ কাটে অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই খেয়ে না খেয়ে। স্বামী অনেক আগে তালাক দিয়ে চলে গেছে। প্রতিদিন দুধের শিশু সাদিয়াকে নিয়ে রাস্তায় ভিক্ষা করেন। মাঝে মধ্যে অনেক দয়াবান মানুষ তাদের কে কিছু অর্থ সাহায্য করেন। এই ঈদে সময় তেমন কোনো সাহায্য পাননি তিনি।

আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটা করতে পারেনি। সাহায্যের আশায় দিনের পর তাদের পথ চেয়ে থাকতে হয়। ঈদের দিনেও না খেয়ে , ছিড়া পোশাক পরে থাকতে হয় এসব মানুষদের। অথচ সমাজের বিত্তবান মানুষরা চাইলেই তাদের ঈদের দিনটি খুশিতে ভরিয়ে তুলতে পারেন।

যাদের সামর্থ্য আছে তারা জাকাত ও সদকা দিতে পারেন। এতে দরিদ্র মানুষ ঈদের সময় খাবার, কাপড় বা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে। ঈদের দিন অনেক অসহায় মানুষ ভালো খাবার পায় না। তাই তাদের মাঝে সেমাই, চাল, মাংস বা রান্না করা খাবার বিতরণ করা যেতে পারে। আবার অনেক এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রম খাবার, কাপড় বা টাকা দিয়ে সাহায্য করা। আবার অনেকে অসুস্থ, বৃদ্ধ বা কাজ করতে অক্ষম তাদের কিছু আর্থিক সাহায্য করা যাতে তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে।

চাইলে বন্ধুরা মিলে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ করে বিভিন্ন বস্তি এলাকায় অথবা রেলস্টেশন এলাকাগুলোতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের অন্ন, বস্ত্র ও অর্থ সাহায্য করা যেতে পারে। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে অসহায় মানুষদের সাহায্য করা যেতে পারে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেন সাহায্য করার সময় কাউকে ছোট করা বা অপমান না করা হয়। সম্মানের সঙ্গে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে। এভাবে সমাজের সব মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারলে ঈদের পবিত্রতা বৃদ্ধি পাবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ,রাজশাহী।

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।