তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে সংঘাত চান না ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১২ এএম, ১৭ মে ২০২৬
তাইওয়ানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের সদর দপ্তরের ছাদে স্বশাসিত দ্বীপটির পতাকা উড়ছে/ ছবি: এএফপি

তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে কোনো সংঘাত চান না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং সফর শেষে শনিবার (১৬ মে) তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তাইওয়ানকে ঘিরে যুদ্ধ বা উত্তেজনা নয়, বরং পরিস্থিতি ‘শান্ত’ দেখতে চান তিনি।

এদিকে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই আবারও নিজেদের ‘স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র’ বলে দাবি করেছে তাইওয়ান।

বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করুক- এমন কিছু তিনি চান না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প আরও জানান, তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি ‘কোনো দিকেই প্রতিশ্রুতি দেননি’।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা তার নেই।

ট্রাম্প বলেন, আমি কাউকে স্বাধীন হতে দেখতে চাইছি না। ভাবুন তো, যুদ্ধ করতে আমাদের ১৫ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার (৯ হাজার ৫০০ মাইল) দূরে যেতে হবে। আমি সেটা চাই না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীনও শান্ত হোক।

ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি ও শি তাইওয়ান নিয়ে ‘অনেক কথা’ বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি রাজি হননি ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যুতে ‘খুবই দৃঢ় অবস্থানে’ আছেন ও তিনি ‘স্বাধীনতার কোনো আন্দোলন দেখতে চান না’।

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান হলো- তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। একই সঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার শর্ত হিসেবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলা হয়।

স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন। প্রয়োজনে এটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি বেইজিং।

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন বা ১১০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ অনুমোদন করবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে তাইওয়ানকে ‘আত্মরক্ষার সক্ষমতা দিতে’ সহায়তা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতেও ওয়াশিংটনকে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে আগেও বলেছেন, তাইওয়ানের আলাদা করে স্বাধীনতা ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই, কারণ তারা নিজেদের আগেই একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। শনিবার (১৬ মে) প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কারেন কুও বলেন, তাইওয়ান যে একটি সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ, তা ‘স্বতঃসিদ্ধ’।

তবে তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে বর্তমান অবস্থা বা ‘স্ট্যাটাস কো’ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাইওয়ান। অর্থাৎ, তারা যেমন চীনের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে না, তেমনি আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাও ঘোষণা করছে না।

তাইওয়ানের অনেক মানুষ নিজেদের আলাদা জাতির অংশ বলে মনে করলেও বেশিরভাগই বর্তমান অবস্থান বজায় রাখার পক্ষপাতী।

এদিকে, বেইজিং বরাবরই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের কড়া সমালোচনা করে আসছে। এর আগে তাকে ‘ঝামেলাবাজ’ ও ‘দুই তীরের শান্তি ধ্বংসকারী’ বলেও আখ্যা দিয়েছে চীন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে বেইজিং, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভারসাম্যকে নতুন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি তাইওয়ানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, আমি বলব, আমাকে সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে হবে, যিনি এখন তাইওয়ান পরিচালনা করছেন। আপনারা জানেন তিনি কে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সরাসরি তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে কথা বলেন না, কারণ তা বেইজিংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেন, প্রথম মেয়াদ থেকেই তাইওয়ান প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অব্যাহত সমর্থনের জন্য আমাদের দেশ কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, শক্তির মাধ্যমে শান্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করবে তাইওয়ান। যাতে তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা কোনোভাবেই হুমকির মুখে না পড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এটি তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করবে।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।