সংঘাত নয়, বিশ্বে শান্তির ডাকে একই মঞ্চে বিভিন্ন ধর্মের নেতারা

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২৬ এএম, ১৭ মে ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত

ঢাকার বকশী বাজারস্থ আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশের জাতীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে ১৬ মে বিকেল ৩টায় শান্তি সম্মেলন উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশের ন্যাশনাল আমির আলহাজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল খান চৌধুরী। অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধি নিজ নিজ ধর্মে শান্তির শিক্ষা বিষয়ে আলোচনা করেন।

আহমদীয়া জামাতের বক্তারা বিশ্ব আহমদীয়া খলিফা প্রদত্ত জুমার খুতবার আলোকে বলেন, ‘মুসলিম দেশগুলোকে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রশক্তিগুলোর ওপর নির্ভর না করে বরং আল্লাহতায়ালার ওপর ভরসা করার, নিজেদের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠার এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আহমদীয়া খলিফা।’

এছাড়া নিজেদের মাঝে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিশ্বাসগত তারতম্য উপেক্ষা করে বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘পবিত্র কুরআন আমাদের এই নির্দেশ দেয় যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার সকল সুযোগ গ্রহণ করা উচিত, সম্ভাবনা যতই ক্ষীণ হোক না কেন। হস্তক্ষেপকারী পক্ষগুলোর উদ্দেশ্য সকল সময়ে কেবলমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠা হওয়া উচিত। এর পেছনে নিজ স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্য লুক্কায়িত থাকা উচিত নয়। বরং তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিশ্বকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার বিষয়ে মনোযোগ নিবদ্ধ রাখা উচিত।’

বক্তারা আরও বলেন, ইসলাম সকল ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যময় সম্পর্কের কথা বলে। এছাড়া ইসলামের আকর্ষণীয় শিক্ষার প্রচার ও প্রসার জোর-জবরদস্তি এবং বল প্রয়োগে নয় বরং যুক্তি, প্রমাণ, প্রেম ও ভালোবাসার দ্বারা মানুষের হৃদয় জয় করার মাধ্যমে সম্ভব। সর্বাবস্থায় ইসলাম অমুসলমানদের অধিকার মর্যাদার সাথে সংরক্ষণ করে। বিদ্বেষ ছড়ানো ও আক্রমণের অধিকার ইসলামে নেই।

সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুনন্দপ্রিয় ভিক্ষু বলেন, ‘গৌতম বুদ্ধের অনুসারী হিসেবে সবসময়ই জগতসহ সকল প্রাণী সুখ ও শান্তি কামনা করি।’

প্রতি ধর্মের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন উল্লেখ করে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন স্বামী দেবাধ্যনান্দ বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মই, অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার শিক্ষা দেয়। শান্তি বিরাজে বিরোধ না, উচিৎ হবে এক ধর্মের সঙ্গে অন্য ধর্মের সমন্বয়, তবেই শান্তি আসতে পারে।’

রমনা-কাকরাইলের, ক্যাথলিক চার্চের ধর্মযাজক ড. ফাদার তপন ক্যামিলাস ডি রোজারিও বলেন, ‘আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন, এই ধর্মকেই ঘৃণা-সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে কিন্তু প্রকৃত ধর্ম কখনোই অসহিষ্ণুতা ও সংঘাতকে সমর্থন করে না। ধর্ম মানুষকে পরিশুদ্ধ করে, ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করে এবং যে শান্তি কথা বলছি, সেই পথে আমাদের পরিচালিত করে।’

অনুষ্ঠানে আহমদীয়া জামাতের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ শামস বিন তারেক, মোহাম্মদ মোস্তফা আলী জিসান এবং আহমদীয়া ন্যাশনাল আমির আলহাজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল খান চৌধুরী। এছাড়া খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ড. ফাদার তপন ক্যামিলাস ডি রোজারিও, বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি সুনন্দপ্রিয় ভিক্ষু এবং হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি স্বামী দেবাধ্যানান্দ, প্রমুখ।

এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বাসুদেব ধর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব-ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক কাজী নূরুল ইসলাম, কাজল দেবনাথ, অধ্যাপক নিরু বরুয়া, রোহিন হোসেন প্রিন্স, সাংবাদিক ও লেখক উম্মুল ওয়ারা সুইটিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান শেষে সবার মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত, কর্তৃক প্রকাশিত ৭৬টি ভাষায় অনুদিত পবিত্র কুরআন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।