স্বামীর অত্যাচারে ঘর ছেড়েও সফল হলেন শিউলি

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০১:১৯ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০১৯

যশোরের বেনাপোল পৌর এলাকার বাসিন্দা শিউলি রানী দে জীবন সংগ্রামে বিজয়ী এক নারী। একদিন তার স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল নেশাগ্রস্ত স্বামীর নির্মম নিষ্ঠুরতায়। একমাত্র শিশুসন্তানকে ছেড়ে স্বামীর গৃহত্যাগী হন। কিন্তু হারার আগে হেরে যাননি রানী দে।

তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্পের (ইউজিআইআইপি-৩) সহায়তায় বেনাপোল পৌরসভা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যোদ্ধা হিসাবে গড়ে তোলেন নিজেকে। আজ তিনি দারিদ্র ও অসহায়ত্বকে জয় করেছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আত্মপ্রত্যয়ী এক সফল নারী হিসেবে। তার এ সফলতার অভিযাত্রায় এলজিইপির অবদান তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছেন। তাকে সম্প্রতি ঢাকায় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ, শাড়ি, ওড়নাসহ নগদ টাকা প্রদান করেন।

shiuly-in

শিউলি রানী বেনাপোল পৌরসভায় আর দশজন নারীর মতই বর্ণিল জীবনের স্বপ্ন দেখতেন। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। দু’বছরের মাথায় কোলজুড়ে আসে একটি শিশুপুত্র। কিন্তু শিউলি রানীর সুখ বেশিদিন সইল না। নেশাগ্রস্ত স্বামী দিলীপ কুমারের অত্যাচার সহ্য করতে হয়। হঠাৎ একদিন স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে যান।

অসহায় শিউলি ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজতে থাকেন। সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। এ বিষয়ে দক্ষতা না থাকায় তিনি সফল হলেন না। তবে দমে যাননি শিউলি রানী দে। এমনই একসময় তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্প (ইউজিআইআইপি-৩) আয়োজিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জানতে পারেন, বেনাপোল পৌরসভা দুস্থ, অসহায়, অবহেলিত নারীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে থাকে। তিনি আশার আলো দেখতে পান।

শিউলি রানী এ প্রকল্পভুক্ত বেনাপোল পৌরসভার জেন্ডার অ্যাকশন প্লান বাস্তবায়নের আওতায় তিন মাসের একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় বেনাপোল পৌরসভা তাকে সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করেন। একই সময়ে তিনি পৌরসভা থেকে হস্তশিল্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ বাড়িতে কাজ শুরু করেন। চলতে থাকে সেলাই ও হস্তশিল্পের ব্যবসা।

shiuly-in

অল্পদিনের ব্যবধানে শিউলী রানী স্থানীয়ভাবে তার পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। সেই থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তার ব্যবসার প্রসার বাড়তে থাকে। সাফল্য এসে ধরা দেয় তার হাতের মুঠোয়। বর্তমানে তিনি মাসে ১০-১২ হাজার টাকা আয় করছেন। হস্তশিল্প সেলাইয়ের ওপর পিছিয়ে পড়া নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। বর্তমানে তার সেই শিশুপুত্রটি উচ্চ মাধ্যমিকে লেখাপড়া করছে।

ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের সহায়তায় আজ সফল শিউলী রানী আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন। এমনকি তার সাথের নারীরাও আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন। একই সঙ্গে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন আত্মমর্যাদায়।

এ ব্যাপারে বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, ‘আমি বেনাপোল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর একটি আইটি কর্নার ও বেকার অসহায় নারীদের জন্য একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলি। সেখান থেকে তারা যেন বিনা পয়সায় প্রশিক্ষণ নিয়ে অন্তত নিজের পায়ে দাঁড়াতে ও পরিবার-পরিজনের পাশে দাঁড়াতে পারে। আজ সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা স্বাবলম্বী।’

মো. জামাল হোসেন/এসইউ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :