শীতে ত্বক ও চুলের নানা সমস্যার সমাধান

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০২১

গ্রীষ্মের তাপদাহ শেষে এসে গেল শীত। এ ঋতু আমাদের অনেকেরই প্রিয়। তবে এই প্রিয় ঋতুতে আমরা অনেকেই ভুগি ত্বকের সমস্যায়। প্রকৃতির সেই প্রভাব পড়ে মানুষের ওপরও।

এ সময় ত্বক হয়ে ওঠে শুষ্ক, রুক্ষ ও খসখসে। ঠোঁট ফেটে যায়। পায়ের গোড়ালি থেকে চামড়া উঠতে থাকে। শীতের শুরুতেই দেখা দেয় আরও নানা সমস্যা। এজন্য এ সময় থেকেই ত্বকের জন্য প্রয়োজন বাড়তি পরিচর্যার।

শীতের শুরুতেই ত্বক ও চুলের নানা সমস্যা ও সমাধান নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন এভারকেয়ার হাসপাতালের, আবাসিক চিকিৎসক ডা. সামিউল আউয়াল সাক্ষর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইসমাম হোসেন মবিন।

জাগো নিউজ: শীতকালে ত্বকের যত্ন কী করণীয়?

ডা. সামিউল আউয়াল সাক্ষর: শীতে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে সাধারণত ত্বকের প্রাকৃতিক যে আর্দ্রতা সেটা বজায় থাকে। শীতের শুরুতেই ত্বকের উপযোগী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন।

এ ছাড়াও শীতে শরীরে তেল ব্যবহার করতে পারেন। যেমন প্রাচীনকাল থেকেই সরিষার তেল ব্যবহার করে আসছে মানুষ। এ ছাড়াও অলিভ অয়েল, নারকেল তেলসহ বিভিন্ন তেল শীতে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে গোসল ও প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার বা লোশান ব্যবহার করুন।

জাগো নিউজ: রাতে ঘুমানোর আগে কি করণীয়?

ডা. সামিউল আউয়াল সাক্ষর: অন্যান্য সময়ের তুলনায় রাতে ঘুমানোর আগে বেশি পরিমাণে ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হবে।

ত্বকের আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে রাতে ঘুমানোর আগে অলিভ অয়েল বা তরল পেরাসিন মাখতে পারেন। যাদের বয়স ৩০ বা তার থেকে বেশি তারা নাইট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। তবে ত্বকের জন্য ওই ক্রিম উপযোগী কি না তা অবশ্যই যাচাই করে নিতে হবে।

জাগো নিউজ: শীতকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা কী উচিত?

ডা. সামিউল আউয়াল সাক্ষর: শীত কিংবা গরম সব আবহাওয়াতেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। বাইরে বের হওয়ার কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট আগে শরীরের খোলা স্থানে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।

জাগো নিউজ: শীতকালে চুলের যত্ন কীভাকে নিতে হবে?

ডা. সামিউল আউয়াল সাক্ষর: শীতকালে কখনো ভেজা চুলে বাইরে যাওয়া উচিত নয়। এতে করে চুল ভেঙে যায় ও চুলের আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

জাগো নিউজ: শীতে ত্বক ভালো রাখতে পানির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

ডা: সামিউল আউয়াল সাক্ষর: শীতকালে অনেকেই পানি কম পান করেন। এটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। কম পানি পান করলে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়।

যা ত্বকে নানা রোগ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে ত্বক খসখসে হয়ে যায় ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। তাই ত্বক সুন্দর রাখতে বেশি বেশি পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাগো নিউজ: এ সময় পায়ের যত্নে কী করণীয় ?

ডা. সামিউল আউয়াল সাক্ষর: শীতে পা ফাটার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এজন্য পা নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ করতে হবে। এতে পায়ের পাতা ও গোড়ালির শুষ্কতা কমবে।

এ ছাড়াও হালকা গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখলে শক্ত ও মৃত চামড়া উঠে আসবে। এটি পায়ের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও পায়ের ত্বকের শুষ্কতা কমে।

তাই শীতে মোজা পরে থাকার অভ্যাস করতে হবে। এতে পায়ের ত্বকের সুরক্ষায় অলিভ অয়েল বাগ্লিসারিন মাসাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পা ফাটা রোধ করা যায়।

জাগো নিউজ: হাতের যত্ন নেওয়ার উপায় কী?

ডা. সামিউল আউয়াল সাক্ষর: মধু, লেবুর রস ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে হাতে লাগিয়ে রাখুন ২০-৩০ মিনিট। শুকিয়ে আসলে কুসুম গরম পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। এতে হাত নরম থাকবে।

ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করা যাবে না। থালা-বাসন পরিষ্কারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন। হাতে মশ্চারাইজার বা লোশন মাখতে হবে। যতবার প্রয়োজন ততবার মাখুন।

জাগো নিউজ: শীতে ঠোঁট ফাটা রোধে কী করণীয়?

ডা. সামিউল আউয়াল সাক্ষর: শীতকালে আর্দ্রতার জন্য ত্বক ও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায়। আবার ডিহাইড্রেশনের কারণে এ সমস্যা আরও বেড়ে যায়। ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেতে হবে যেমন- লেবু, কমলা, জাম্বুরা, বড়ই, বেশি বেশি খেতে হবে।

কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালেও ঠোঁট ফাটবে না। ঠোঁটকে সচিব রাখতে বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাবেন না। এতে ঠোঁট আরও শুকিয়ে যায়। সব সময় লিপজেল ব্যবহার করুন। শীতে নারীরা ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করবেন না।

জাগো নিউজ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ডা. সামিউল আউয়াল সাক্ষর: আপনাকেও ধন্যবাদ। জাগো নিউজের জন্য শুভকামনা।

জেএমএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]