আজ হাওয়াই মিঠাই খাওয়ার দিন

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২

হাওয়াই মিঠাই চেনেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না এই বঙ্গদেশে। প্রতিটি বাঙালির শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাইয়াই মিঠাই। গোলাপি কিংবা সাদা রঙের হাওয়াই মিঠাই যে কোনো মেলায় বা উৎসবে জিহ্বার সঙ্গে আমাদের শৈশবের দিনগুলোও রাঙিয়েছে। জানেন কি? শুধু আমাদের দেশেই নয়, হাওয়াই মিঠাই খাওয়ার চল বিশ্বের অনেক দেশেই আছে। এর জন্মই হয়েছিল সুদূর আমেরিকায়।

আজ ৭ ডিসেম্বর হাওয়াই মিঠাই দিবস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই দিনটি ‘জাতীয় কটন ক্যান্ডি ডে’ হিসেবে পালন করা হয়। হাওয়াই মিঠাইয়ের ইংরেজি নাম কটন ক্যান্ডি। এই নাম প্রথম ব্যবহার করেছিলেন এক দন্ত চিকিৎসক। মার্কিন দন্ত চিকিৎসক জোসেফ ল্যাসকক্স হাওয়াই মিঠাই মূলত দাঁতের ভালোর জন্য রোগীদের খাওয়ার অন্যমতি দিতেন। কারণ ক্যান্ডি খাওয়ার পর তা দাঁতের সঙ্গে লেগে থাকে। অনেকে ঠিক মতো দাঁত ফ্লস করেন না। ফলে দাঁতে দেখা দেয় নানা সমস্যা।

সেই সব সমস্যার সমাধান করতেই জোসেফ ক্যান্ডির বিকল্প হিসেবে কটন ক্যান্ডি খাওয়ার অনুমতি দিতেন শিশুদের। তিনি মরিসন এবং ওয়ার্টনের হাওয়াই মিঠাই যন্ত্রটিকে আরও উন্নত করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি। ১৯৪৯ সালে গোল্ড মেডেল প্রোডাক্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠান উন্নত যন্ত্র নিয়ে আসে। এখনো পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হাওয়াই মিঠাই যন্ত্র তৈরি করে।

১৯০৪ সালে মরিসন এবং ওয়ার্টন প্রথম তাদের হাওয়াই মিঠাই যন্ত্র জনসম্মুখে আনেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইস ওয়ার্ল্ডস ফেয়ারে তারা তাদের হাওয়াই মিঠাইয়ের দোকান নিয়ে বসেন। এই মেলায় তারা প্রায় ৭০ হাজার হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করেন। তবে ইতিহাস বলছে এই হাওয়াই মিঠাইয়ের জন্ম পনেরশ শতকে। সেসময় একজন ইতালীয় রাঁধুনি চিনির সিরাকে কাঁটা চামচ দিয়ে টেনে সুতার মত তৈরি করে হাওয়াই মিঠাই তৈরি করতো।

ষোড়শ শতকে ফ্রান্সের সম্রাট তৃতীয় হ্যানরিকে ভেনিস ভ্রমণের সময় বিভিন্ন রকম মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় যেখানে চিনির পেঁচানো সুতাও ছিল। ঊনিশ শতকেও চিনির সুতার তৈরি জাল দিয়ে বিভিন্ন মিষ্টিকে সাজানো হতো। সেসময় হাওয়াই মিঠাই যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়নি বলে ছুরির বা কাঁটা চামচের মাথায় চিনির সিরা লাগিয়ে টেনে পেঁচিয়ে চিনির সুতা তৈরি করা হতো। তবে বর্তমানে আমরা যে হাওয়াই মিঠাই চিনি সেটি উদ্ভাবন হয়েছে গত শতাব্দীতে।

সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার/ ন্যাশনালটুডে

কেএসকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।