ছেঁড়া লুঙ্গিতে জীবন পার করা মানুষটির নাম বাবা

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩৩ পিএম, ১৮ জুন ২০২৩

মো. আবু সালেহ মুসা

যখন একজন পুরুষ বাবা হন; তখন তার নিজস্বতা বলতে কিছু থাকে না। থাকে না নতুন জামা, লুঙ্গি কিংবা দামি জুতোও। বাবাদের গায়ে সুগন্ধি থাকে না, শুধু থাকে রোদে পোড়া শরীরে ঘামের গন্ধ। সঙ্গে চেহারায় থাকে পরিশ্রমের চিহ্ন।

বাবারা এমন কেন? সন্তানের নতুন জামা-জুতোর টাকা থাকে, দামি আতরের টাকা থাকে, শুধু নিজের জন্য কিছু থাকে না। বাবারা এমন ‘পচা’ কেন! বাবাদের কি কোনো স্বাদ-আহ্লাদ নেই? নেই কোনো রুচি?

তাদের কি একটিবারও ইচ্ছে করে না নিজের জন্য সুন্দর একটি পোশাক কিনতে? কেনইবা প্রতিবার সন্তানের জন্য সেরা জামাটা কিনতে হবে? সেখান থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে নিজের জন্য তো একটা কিছু নেওয়া যেত।

আরও পড়ুন: আব্বার জন্য আমার চোখ দুটি ঝরনাধারা

কিন্তু বাবা তা কখনোই করেন না। বরং সুন্দর জামা পেয়ে সন্তানের মুখে হাসি এলে তিনিও খুশি হয়ে যান। ভুলে যান তার নিজস্ব চাওয়া-পাওয়ার কথা। দু’বছর আগের ছেঁড়া লুঙ্গিটা দিয়ে আরও একবছর কাটিয়ে দেওয়ার চিন্তা করা মানুষটির নাম বাবা।

আমি আমার বাবাকেই দেখেছি, কখনো নিজের জন্য কিছু নেননি। কখনো ভালো খাবারটি নিজে খাননি। আমাকে বাড়িতে একা রেখে কোনো দাওয়াতে যাননি। আমার জন্মের পর তার সবটাজুড়ে শুধুই আমি। আমি ছাড়া তার পৃথিবীটা ঠিক শূন্যের মতো।

এত কিছুর পরও আমরা ভুলে যাই সেই বাবার অবদান। আমাদের জন্য যে মানুষটি তার শরীরে কখনো শান্তির ছোঁয়া লাগাতে পারেননি; সেই মানুষটিকেই কি না একটা বয়সে পাঠিয়ে দিই বৃদ্ধাশ্রমে। যে মানুষটি সারাদিন পরিশ্রম করতেন শুধু আমাদের সুখের জন্য; বৃদ্ধা বয়সে তাকে ঠেলে দিই অনিশ্চিত কোথাও। তার শরীর থেকে গন্ধ আসায় নাক চেপে পাশ কাটিয়ে হেঁটে যাই।

আরও পড়ুন: বাবার জন্য যত উপহার

বাবা তা বুঝেও না বোঝার ভান করে চুপ করে থাকেন। হাজারটা কষ্ট বুকে নিয়ে দিন পার করেন। শেষ বয়সে এসে বৃদ্ধাশ্রমের জানালার পাশটাই তার অতি আপন হয়ে যায়। সেখানে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ফেলে আসা স্মৃতিগুলো মনে করতে পারেন। সেখানে কেউ ডাকার নেই, কেউ কিছু বলার নেই। যেন স্বাধীন থেকেও পরাধীন।

বাবা শুধু বাবাই নন, মরুর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষ। যিনি তার শেষ সময়টা পর্যন্ত আমাদের ছায়া দেন। যার ছায়া না থাকলে আমরা পথ চলতে পারি না। বাবা মানেই পরম আশ্রয়, অভয়ারণ্য। বাবার মতো নির্ভরযোগ্য আর কি কেউ আছে? তাই শেষ বয়সটাতে বাবাকেও শিশুর মতো করে বাঁচতে দিন। ঠিক যেমনটি আমাদের শৈশবে তিনি করেছেন।

লেখক: ফ্রিল্যান্স ফিচার রাইটার।

এসইউ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।