সন্ধান মিলেছে যিশুর হারানো সমাধির!
ইহুদি ভূতাত্ত্বিকের দাবিতে নতুন করে উস্কে উঠেছে যিশু খ্রিস্টের সমাধিস্থান ও তার বিবাহিত জীবন সংক্রান্ত বিতর্ক। ১৯৮০ সালে জেরুজালেমের পূর্ব দিকের তালপিয়ট অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া যায় পাথর কেটে তৈরি করা একটি সমাধিক্ষেত্র। দশ জনের অন্তিম শয়ান হয়েছিল ওই পাথুরে সমাধিক্ষেত্রে। কিন্তু, তারা কারা তা নিয়ে এখনো সংশয়ে বিজ্ঞানীরা।
২৫ বছর পর বিস্ফোরক দাবি করলেন ইজরায়েলের ভূতাত্ত্বিক আরইয়েহ শিমরোন। তার দাবি, এই সমাধিক্ষেত্রে শায়িত ব্যক্তিদের শবাধারে যে লিপি উৎকীর্ণ করা রয়েছে তার পাঠোদ্ধার করে তিনি নিশ্চিত যে এই সমাধিক্ষেত্রই যিশুর পারিবারিক সমাধিক্ষেত্র।
২০০৭ সালে এই সমাধিক্ষেত্র নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন পরিচালক জেমস ক্যামেরন। তাতে তিনি এমনই কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু, তখনো গবেষণা শেষ হয়নি শিমরোনের। তাই, ক্যামেরনও নিশ্চিতভাবে কোনো সাহসী পদক্ষেপ করতে পারেননি। শুধু বলেছিলেন, `জোসেফের সন্তান যিশু` ও `মেরি` নাম দু`টি লেখা রয়েছে দশটি শবাধারের মধ্যে দু`টির গায়ে।
ওই সমাধিক্ষেত্রের বয়স ও তাতে উৎকীর্ণ লিপির পাঠোদ্ধার এতোদিনে শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিমরোন। এর পরই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য জানা গেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ওল্ড টেস্টামেন্টে যেমন বলা রয়েছে তেমনই কিছু লেখা আছে সমাধিক্ষেত্রের একাধিক শবাধারের গায়ে। কোনো গায়ে লেখা `জোসেফের পুত্র যিশু`। কোথাও লেখা `জোসেফের পুত্র ও যিশুর ভাই জেমস`৷
এই সমাধিক্ষেত্রের বিভিন্ন শবাধারে যে নামগুলো লেখা রয়েছে সেগুলো যিশুর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের নাম। তাই, সমাধিক্ষেত্রটি যে ওই পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট তা একরকম নিশ্চিত বলে দাবি করেছেন শিমরোন। তিনি জানাচ্ছেন, এই সমাধিক্ষেত্রের শবাধারগুলোর অস্তিত্ব থেকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ হয়, `পুনরুত্থানের` মতো কোনো ঘটনা আদৌ ঘটেনি।
এর চেয়েও ভয়ানক দাবি করেছেন ওই ভূতাত্ত্বিক। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সমাধিক্ষেত্রে যাদের অন্তিম শয়ান হয়েছিল শবাধারে তাদের সবারই নাম লেখা আছে। তার ভিত্তিতে এবং যেভাবে দেহগুলো পর পর শোয়ানো ছিল সেই বিন্যাস দেখে বোঝা যায় যিশু বিবাহিত ছিলেন।
তার স্ত্রী মেরি ম্যাগডালেনকেও এই সমাধিক্ষেত্রেই সমাহিত করা হয়। শবাধারে মিলেছে `যিশুর সন্তান জুডা-র` নামও। শিমরোনের দাবি, `এর পর তো আর যিশুর বিবাহ ও পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহের জায়গা-ই থাকে না।`
সমাধিক্ষেত্রটির বাইরের দিকের দেয়াল দেখে বুঝতে কষ্ট হয় না যে এক সময় কাদা ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ দিয়ে এই সমাধিক্ষেত্রটি ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
বিএ/পিআর