প্রিজন ভ্যানে আহত পলকের ঘাড়-কোমরের হাড়ে সমস্যা হয়েছে: আইনজীবী
প্রিজন ভ্যানে করে নেওয়ার সময় আহত হওয়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ঘাড় ও কোমরের কয়েকটি হাড়ে সমস্যা ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী তরিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তরিকুল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর আদালতের অনুমতি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পলকের এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং) পরীক্ষা করা হয়। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) করা সেই পরীক্ষার প্রতিবেদন তারা সম্প্রতি হাতে পেয়েছেন।
এমআরআই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তরিকুল জানান, পলকের কোমরের হাড় সরে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি ঘাড়ের ডিস্কেও সমস্যা শনাক্ত হয়েছে।
তরিকুল বলেন, পলক আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সম্প্রতি কারাগারে গিয়ে দেখা করলে তিনি ঘাড় নাড়াতে পারছিলেন না বলে জানান। গুরুতর শারীরিক সমস্যার পরও তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করা হবে।
এর আগে, গত ২৮ এপ্রিল পলকের আরেক আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জাগো নিউজকে বলেছিলেন, গত ১৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরা শেষে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে ফেরার পথে একটি গাড়ির ধাক্কায় ভেতরে পড়ে গিয়ে পলক ঘাড়ে আঘাত পান। পরে তার এমআরআই করানোর আবেদন করা হয়।
তবে এ ঘটনায় ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে কারা অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির এআইজি (উন্নয়ন ও মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রিজন ভ্যান কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়নি। পোস্তগোলা সেতু থেকে নামার সময় গাড়িটি হঠাৎ ব্রেক করলে ভেতরে থাকা বন্দীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে পলক ঘাড়ে সামান্য ব্যথা পান।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট পলককে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতে হাজিরার সময় বিভিন্ন দফায় কোমরের ব্যথার কথা জানিয়েছেন তিনি। বেশ কয়েকবার তাকে কোমরে সাপোর্ট বেল্ট পরা অবস্থায়ও দেখা গেছে।
এমডিএএ/একিউএফ