টার্কি পালনে উদ্যোক্তা মিরাজের সফলতা

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৩১ এএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে পোল্ট্রির পাশাপাশি টার্কি মুরগি বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। তাই রাজধানীর বাড্ডায় নিজেদের প্রচেষ্টায় শুরু হয় একটি খামার। এখানে টার্কি, তিতির, উটপাখি ও কোয়েল পাখি পালন করা হয়।

কৃষিমনস্ক প্রকৌশলী শাহীন হাওলাদার ও দুবাই ফেরত মিরাজ হোসেনের প্রচেষ্টায় চালু হয় খামারটি। এই খামার করেই উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হয়েছেন তিনি। মিরাজ হোসেন দুবাই থেকে আসার পর কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে অনলাইনে টার্কি সম্পর্কে জানতে পারেন। তারপর টার্কি পালনের উপর কিছু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাত্র ৬টি টার্কি নিয়ে খামারটি শুরু করেন।

jagonews24

বর্তমানে টার্কি উৎপাদনে বিশেষভাবে অবদান রেখেছে মিরাজের টার্কি ফার্ম। ফার্মের কারণে মিরাজ সবার কাছে ‘টার্কি মিরাজ’ নামে পরিচিত। ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে মাত্র ৬টি টার্কি দিয়ে ফার্মটি শুরু করলেও বর্তমানে খামারে ৩-৪ মাস বয়সী ১৫০টি এবং ৮-৯ মাস বয়সী ৪৬টি টার্কি রয়েছে। একটি পুরুষ টার্কির ওজন হয় ১০-১২ কেজি। পুরুষ টার্কির তুলনায় স্ত্রী টার্কি আকৃতিতে ছোট এবং ওজনে কম হয়। একটি স্ত্রী টার্কি বছরে ৮০-১০০টি ডিম দেয়।

> আরও পড়ুন- লিচু বাগানে ১ লক্ষ নারীর কর্মসংস্থান

jagonews24

ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ২৮ দিনে টার্কির বাচ্চা উৎপাদন হয়। প্রতিমাসে এখানে ২০০-২৫০টি বাচ্চা উৎপাদন হয়। এছাড়া দেশি মুরগির সাহায্যে সনাতন পদ্ধতিতেও ২৮ দিনে বাচ্চা উৎপাদন করা যায়।

টার্কির একমাস বয়সের একটি বাচ্চার দাম ৩ হাজার টাকা, তিতিরের বাচ্চার দাম ২ হাজার টাকা। বড় একজোড়া টার্কির দাম ১০-১২ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি ডিম বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।

jagonews24

অনুকূল পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঘর ও নিয়মিত খাবার দিলে টার্কি রোগাক্রান্ত হয় না। একটি টার্কির জন্য ৪-৫ বর্গফুট জায়গা রাখতে হবে। খামারে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন ফার্মাসিস্ট এনামুল হক। চারটি ভ্যাকসিনেশন সিডিউল আছে। রানীক্ষেতসহ চারটি রোগের জন্য ভ্যাকসিন দিতে হয়।

পাশাপাশি মিরাজ হোসেন উটপাখিও পোষা শুরু করেন। এছাড়া কোয়েল পালন করতে থাকেন। সাধারণত একটি ভালো জাতের কোয়েল পাখি বছরে ২৫০-৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে। প্রায় প্রতিটি ডিম থেকেই বাচ্চা হয়। এই বাচ্চা পরবর্তী ৬-৭ সপ্তাহের মধ্যেই ডিম দেওয়া আরম্ভ করে।

jagonews24

> আরও পড়ুন- রিকশা চালালেও রোজা ভাঙেননি সত্তরোর্ধ্ব হানিফা

পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে সেখানেই কোয়েলের খাঁচা রাখা উত্তম। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, বৃষ্টির পানিতে কোয়েলের খাঁচা যেন ভিজে না যায়। এতে কোয়েলের রোগ-ব্যাধি বেশি হয়।

মিরাজ হোসেনের দেখাদেখি নুরুল হুদা, পার্থ মজুমদার বাপ্পি এবং শরীফ আব্দুল কাইয়ুমও এ ধরনের খামার করেছেন। কেবল টার্কি নয় তিতির, কোয়েলের খামার করেও সফলতা পেয়েছেন। মিরাজের ইচ্ছা বাণিজ্যিকভাবে সারা দেশে এই খামারের পরিকল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া।

jagonews24

এ ব্যাপারে মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমি টার্কি বিপ্লব ঘটানোর স্বপ্ন দেখি। বেকারত্ব দূর করার জন্য এটা একটা ভালো উদ্যোগ। প্রতি শুক্রবার আমার খামারটি পরিদর্শনে আসেন অনেক উদ্যোক্তা।’

এসইউ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :