তারুণ্যের চোখে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১
ছবি : মাহবুব আলম

একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাকে নিয়ে কোনো সমঝোতা না করে লড়াই করা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির গর্বের দিন। সালাম, রফিক, শফিক, বরকত ও জব্বারের মতো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি। তরুণ প্রজন্মের কাছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি কী অর্থ বহন করে? একুশ নিয়ে তাদের ভাবনা কী? বিস্তারিত জানাচ্ছেন সাজিয়া আফরিন সৃষ্টি-

এস কে শাওন বলেন, ‘বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। তবে বাঙালির মধ্যে ইংরেজি ভাষায় কথা বলার চর্চা বাড়ছে। বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। ২১ ফেব্রুয়ারির ইতিহাস দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়াতে হবে। কারণ এতে বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষার চর্চা বৃদ্ধি পাবে। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষাই হোক তরুণ প্রজন্মের অঙ্গীকার।’

jagonews24

মো. আল-আমিন তুষার বলেন, ‘কোনো জাতিকে আলাদা করে সেই জাতির ভাষা, সংস্কৃতি আর সাহিত্য। বিশ্বের একমাত্র জাতি হিসেবে আমরা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দিয়েছি। তবে সেই বীরত্ব হয়তো দিনদিন আমরা হারাচ্ছি। কথায় কথায় আমাদের ভাষার মধ্যে চলে আসছে অন্য ভাষার নানা শব্দ। আমি বলছি না যে, ইংরেজি ভাষার দরকার নেই। বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে আমাদের কমপক্ষে ৩টি ভাষায় পারদর্শী হতে হবে। কিন্তু তা বলে ভাষাকে বিকৃত করে নয়।’

শামদ মাসাকারা বলেন, ‘আমাদের সবার কাছে মাতৃভাষার তাৎপর্যের কোনো কমতি নেই। তবে আমাদের বাংলা ভাষা দিনদিন সঠিক চর্চা ও ব্যবহারের ফলে নিজস্বতা হারাচ্ছে। আমাদের উচিত সব সময় বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ভাষাকে ছোট না করে ভাষার সম্মান অটুট রাখতে এর সঠিক চর্চা করা প্রয়োজন। ভাষার মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি বাঙালিকে। শুদ্ধ ভাষা চর্চাই হোক বাঙালির চির প্রেরণার প্রতীক।’

মো. তানভির সিদ্দিক টিপু বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি এলে বাহ্যিক সাজসজ্জা আর মেকি চেতনার বহিঃপ্রকাশে ঢেকে যায় ইতিহাস। তরুণ প্রজন্মের অনেকের কাছে বাংলা ভাষা চর্চার কোনো বিষয় নয়। শুধু ফেব্রুয়ারি উদযাপনে নয়, বাংলার চর্চা হোক সারাবছর। তরুণ প্রজন্ম যেন এ চেতনার স্বরূপ নিজেদের মাঝে ধারণ করে।’

jagonews24

সাইমুন মুবিন পল্লব বলেন, ‘একুশ মানে রাজপথে মাথা নত না করা। এ শক্তি আমাদের দিয়েছে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। একুশের এ শক্তির বলে আমরা ছিনিয়ে এনেছি আমাদের মাতৃভাষা। এ ভাষা আন্দোলনই আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের পাথেয়। আসুন ভাষার এ মাসে আমরা বাংলা-ইংরেজির মিশ্র ব্যবহার বর্জন করি। ভাষার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই।’

আজমেরী আজিজ লিমা বলেন, ‘১৯৫২ সালে আমরা ভাষা শহীদদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে পেয়েছি। মাতৃভাষার জন্য তাদের এ ত্যাগ ছিল অবিস্মরণীয়। যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এখন পর্যন্ত হয়নি। তাই ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ভাষা আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। আমরা যেন সে সম্মান রক্ষা করতে পারি।’

এসইউ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]