সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা

হামে আক্রান্ত ৯৯ শতাংশ রোগীই সুস্থ হয়ে ওঠে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ১৫ মে ২০২৬
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন ও চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা/ছবি: জাগো নিউজ

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামে আক্রান্ত ৯৯ শতাংশ রোগীই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রজনিত জটিলতা দেখা দিলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই দ্রুত চিকিৎসা ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (১৬ মে) দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন ও চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। অতীতে সফল টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে হাম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এলেও গত দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় সংক্রমণ আবার বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত দেশে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন শিশুর মধ্যে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

তিনি বলেন, হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া। এ পরিস্থিতিতে জনগণকে সচেতন করতে এবং করণীয় বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিতে দেশের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করছেন।

হামের বিস্তার রোধে চারটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সেগুলো হলো—অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা, উপজেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘ফিভার কর্নার’ চালু করে হামপ্রবণ এলাকা শনাক্ত করা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত চিকিৎসা নির্দেশিকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে ৯৯ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। অপতথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার জটিলতা বেশি দেখা দেয় অপুষ্টি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে। নিউমোনিয়া শুধু ফুসফুস নয়, অনেক সময় মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে। ডায়রিয়া, বমি, মারাত্মক পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে আসা শিশুদের অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে।

তাদের মতে, নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ ও শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে চিকিৎসা শুরুতে দেরি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের কারণে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে যায়।

চিকিৎসকরা আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম, প্রায় ৫ থেকে ৮ শতাংশ। কিন্তু গুরুতর জটিলতা তৈরি হলে মৃত্যুর হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়া বা উচ্চ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে আনতে দেরি হলে জটিলতা বাড়ে। হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই আক্রান্ত শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব প্রফেসর ডা. আসিফ মুজতাবা মাহমুদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর, পেডিয়াট্রিক পালমোনোলজিস্ট অধ্যাপক রুহুল আমিন, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. গোলাম সরওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।

এসইউজে/এমএমকে 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।