৯৪ শতাংশ শিশু-কিশোর মানসিক চিকিৎসার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২০ এএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

দেশে মানসিক রোগীদের বেশিরভাগ চিকিৎসার আওতার বাইরে থাকছে। মানসিক রোগীদের মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্কদের ৯২ শতাংশ এবং শিশু-কিশোদের ৯৪ দশমিক ৩ শতাংশ চিকিৎসার আওতায় আসছে না।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘ইন্ট্রি টিকেটস ফর সাইক্রায়াট্রি ওপিডি: রিস্ক অব মিসগাইড বহির্বিভাগে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান।

সেমিনারে জানানো হয়, মানসিক রোগীরা প্রথম অবস্থায় মনোরোগের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। না আসার পেছনে রোগীদের মধ্যে মানসিক রোগ সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব, সচেতনতার অভাব, ভ্রান্ত ধারণা, সঠিত রেফারেল সিস্টেমের অভাব অন্যতম। হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ ধরনের রোগী এলে সঠিক নির্দেশিকা না থাকায় পর্যাপ্তভাবে এ রোগ চিহ্নিত হয় না। ফলে তারা এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ঘুরতে থাকেন।

আরও পড়ুন>> দাম্পত্য কলহে হতে পারে ৭ রোগ

বিশেষজ্ঞরা জানান, মানসিক রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরু হয় গড়ে ২৪ থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে। গড় বিলম্বজনিত কারণে মানসিক রোগ চরম মাত্রা ধারণ করতে পারে এবং রোগীরা ভোগান্তির শিকার হন।

সেমিনারে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। তার মধ্যে বহির্বিভাগে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক লক্ষণ সংবলিত ব্যানার স্থাপন, টিকিট বণ্টনকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের মাধ্যমে ‘Patient sorting room/ screening corner’ চালু করার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সাধারণ মানুষ ও রোগীদের সচেতনতা ও জানানোর জন্য যারা টিকিট বিতরণের দায়িত্বে থাকেন তাদের আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। কিছু কিছু রোগ যেমন চোখের সমস্যা, লিভারের সমস্যার কথা বলতে পারেন, কিন্তু অধিকাংশ রোগের কথা, বিভাগের কথা বলতে পারেন না। মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের নামটি হয়তো তারা জানেন না।

উপাচার্য বলেন, সমস্যা আছে, তার সমাধান আছে। মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের ফেজ ‘এ’ ও ফেজ ‘বি’ রেসিডেন্টদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে এ ধরনের রোগী শনাক্ত করার জন্য যেতে হবে। এছাড়া যেসব রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিছু না পাওয়া গেলে, তাদের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগে রেফার্ড দিতে হবে। যারা টিকিট বিতরণ বা বিক্রির দায়িত্বে থাকেন তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রোভাইডার প্রশিক্ষণ নিয়ে ওষুধ বিতরণ করে। আমরাও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে পারবো। আমাদের রিসিপশন থেকে রেসিডেন্টদের দিয়ে রোগী স্ক্রিনিং করে টোকেন দিয়ে রোগীদের মাঝে টিকিট বিতরণ করা হবে। বহির্বিভাগে মনোরোগ বিদ্যাসহ সব বিভাগের টিকিট বণ্টন আধুনিকায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন>> ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মিলবে কীভাবে?

মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে ইউজিসি অধ্যাপক ডা. সজলকৃষ্ণ ব্যানার্জী, বিএসএমএমইউয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. এমএম এ সালাহ্উদ্দিন কাউসার, অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. রেজার রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক (ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি) সেলিনা ফাতেমা বিনতে শহীদের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের ফেজ ‘বি’ রেসিডেন্ট ডা. নাহিদ আফসানা জামান।

এএএম/ইএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।