গাজায় মানবাধিকার সংকট
ইসরায়েলি হুমকির পর রাফাহ সীমান্ত পরিদর্শনে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষে মানবিক সফরের অংশ হিসেবে মিসরের রাফাহ সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সাবেক বিশেষ দূত হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ।
নতুন বছরে গাজায় ৩০ টির বেশি মানবাধিকার সংগঠন বন্ধের ঘোষণার পর শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাফাহ সীমান্তে মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন জোলি।
রাফাহ সফরের সময় অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মিসরের রেড ক্রিসেন্ট ও অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গাজায় কীভাবে আরও সহায়তা পৌঁছানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন।
রাফাহ সীমান্ত পরিদর্শনে গিয়ে এক বিবৃতিতে জোলি বলেছেন, আমি এমন মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি, যারা গাজায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে নানা বিধিনিষেধ ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি একটি বড় গুদাম পরিদর্শন করেছি যেখানে এমন অনেক সামগ্রী রাখা ছিল যেগুলো গাজায় প্রবেশের অনুমতি পায়নি যার বেশিরভাগই ছিল চিকিৎসা সরঞ্জাম।
তিনি বলেন, কী করা প্রয়োজন তা স্পষ্ট—যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে এবং নিরাপদ ও অব্যাহতভাবে সহায়তা প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে হবে যাতে প্রয়োজনীয় খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে গাজায় পৌঁছাতে পারে।
জোলি আরও বলেন, শীতবস্ত্র ও জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী দেরি ছাড়াই পাঠাতে হবে। প্রতিটি দিনের বিলম্ব মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে।
أنجلينا جولي تزور العريش في مهمة إنسانية لتفقد أوضاع المصابين الفلسطينيين
— شاهيناز طاهر (@ChahinazTaher) January 2, 2026
كل التقدير والاحترام لسيادة محافظ شمال سيناء اللواء خالد مجاور
@khaledmgawer113 pic.twitter.com/tIuhvzXHk8
এর আগে চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল শর্তপূরণ না করলে অক্সফামসহ গাজার প্রায় ৩০ টি সংগঠন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। এ ঘোষণায় বলা হয়েছে, যেসব আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা তাদের নিবন্ধন নবায়ন করেনি তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গাজায় কাজ করা সংস্থাগুলোকে তাদের কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিতে হবে। তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়েছে।
ইসরায়েলের এমন ঘোষণার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একই সঙ্গে বিশ্বের আরও ১০টি দেশ সতর্ক করে বলেছে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নতুন করে অবনতি ঘটছে এবং অঞ্চলটির পরিস্থিতি এখনো ‘চরম বিপর্যয়কর’ রয়ে গেছে।
তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, এসব নিবন্ধন বিধিনিষেধের লক্ষ্য হলো হামাস যেন আন্তর্জাতিক সহায়তার অপব্যবহার করতে না পারে। তবে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক পর্যালোচনায়ও হামাসের মাধ্যমে ব্যাপক ত্রাণ চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা বর্তমানে তীব্র শীতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারী বৃষ্টি ও তাপমাত্রা হ্রাসে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। হামাস পরিচালিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের (জিএমও) তথ্য অনুযায়ী, ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে অস্থায়ী তাঁবু ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আশ্রয় নিতে গিয়ে ভবন ধসে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের জাতিগত নিধনে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ।
সূত্র : সিএনএন
কেএম