মোটা অংকের জামানত দিলেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিশ্চিত?
এবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ব্যবসায়ী বা পর্যটক হিসাবে আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদেরকেও মোটা অংকের বাড়তি জামানত দিতে হবে। যার পরিমাণ পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
এই ভিসা বন্ড বা জামানতের শর্তযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় প্রথমে ছিল সাতটি দেশ। কিন্তু সাত দিন যেতে না যেতেই সেই তালিকা প্রায় চার গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, এতে বাংলাদেশের নামও রয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই তালিকা আপডেট করেছে। বর্তমানে এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৩৮টি দেশ। এই নতুন দেশগুলোর জন্য ‘ভিসা বন্ড’ কার্যকর হওয়ার তারিখ প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি চালু হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে। বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল ও ভূটানের মতো দেশও রয়েছে।
যারা পর্যটক বা ব্যবসায়ী হিসাবে ভিসার আবেদন করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ভিসা পাওয়ার পর এই ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে হবে।
এই তিনটি বিমানবন্দর হলো বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ও ওয়াশিংটন ডালাস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পর যতদিন থাকার অনুমোদন রয়েছে, তার মধ্যে বা আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসার মেয়াদের মধ্যে আদৌ যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ না করলে অথবা দেশটির কোনো বন্দর থেকে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলে জমা রাখা জামানত বাতিল হয়ে যাবে এবং সেটি স্বয়ংস্ক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
বন্ড জমা দেওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত?
নিয়ম অনুযায়ী, ওই ৩৮ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার জন্য পাঁচ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়ই ঠিক করা হবে বন্ডের পরিমাণ কত হবে।
এটা নির্ধারিত হবে তিন ধাপে- পাঁচ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। কার কত পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, তা নির্ধারণ করবে ভিসা কর্মকর্তা। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে তিনি এটি নির্ধারণ করবেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কোনো নাগরিক বা নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি বি১ ও বি২ ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়, তাহলেও তাকে এই ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে।
এছাড়া কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে নির্দেশ দেওয়ার পর আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ফর্ম আই-৩৫২ জমা দিতে হবে।
তাদেরকে Pay.gov নামের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ডের শর্তে সম্মতি জানাতে হবে। এই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য।
পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আরও বলা হয়েছে, বন্ড জমা দিতে কোনো তৃতীয়-পক্ষের ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে না। মার্কিন সরকারের নিজস্ব সিস্টেমের বাইরে কোনো জায়গায় অর্থ পরিশোধ করলে তার জন্য সরকার দায়ী থাকবে না। আর কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া কেউ যদি বন্ড ফি পরিশোধ করেন, তাহলে সেই অর্থও ফেরত দেওয়া হবে না। স্টেট ডিপার্টমেন্ট এও জানিয়েছে যে, বন্ড জমা দেওয়া মানেই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত না।
টিটিএন