গ্রিনল্যান্ড ইস্যু
ট্রাম্পের হুমকি ‘ব্ল্যাকমেইল’ বলে পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে ইইউ
গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ এবং সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘শুল্কের হুমকি ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ককে দুর্বল করবে এবং বিপজ্জনক সংঘাতের পথে ঠেলে দিবে।আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এদিকে রোববার (১৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ন্যাটো গত ২০ বছর ধরে ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ডে রুশ হুমকি মোকাবিলার কথা বলে আসছে কিন্তু ডেনমার্ক কিছুই করতে পারেনি। তিনি লিখেছেন,‘এখন সময় এসেছে, এবং এটি হবেই!’
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নেবে সেসব দেশের ওপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ এবং ১ জুন থেকে তা বেড়ে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তার দাবি, গ্রিনল্যান্ড ‘সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে’ যুক্তরাষ্ট্র কিনে না নেওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে।
এ বিষয়ে আলোচনা করতে রোববার (১৮ জানুয়ারি) জরুরি বৈঠকে বসেছেন ইইউর শীর্ষ কূটনীতিকরা। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের একটি স্থগিত পরিকল্পনা পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গত বছর ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পর এই পরিকল্পনাটি স্থগিত করা হয়েছিল।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ট্রাম্প হুমকি বাস্তবায়ন করলে ইইউর অ্যান্টি-‘কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট’ (এসিআই) যা ‘বিগ বাজুকা’ নামে পরিচিত ব্যবহার করা উচিত। এই আইন এর আগে কখনো প্রয়োগ করা হয়নি।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা জরুরি ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন যে-কোনো ধরনের জবরদস্তির বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে ইইউ প্রস্তুত।
এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির প্রধান বের্ন্ড লাঙ্গে বলেছেন, ট্রাম্প বাণিজ্যকে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ইইউ আর স্বাভাবিক ব্যবসার মতো চলতে পারে না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কে এম