ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ: প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬
নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসের ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের বাইরে ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে কথা বলছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি/ ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে তোলা ছবি: এএফপি

ইরান যুদ্ধ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়ছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এরই মধ্যে মার্কিন মুসলিমদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর ও বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ও তা বেড়েই চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেইট (সিএসওএইচ) এসব তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সেই (সাবেক টুইটার) যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা ২৫ হাজার ৩০০টিরও বেশি ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য পোস্ট করেছেন।

সোমবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগেও সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী কনটেন্ট ছিল। গবেষণায় ১ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ইসলামবিদ্বেষী কনটেন্টসম্বলিত মূল পোস্ট, উদ্ধৃতি পোস্ট ও জবাবগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, পুনরায় শেয়ার করা পোস্টগুলো যুক্ত করলে এ ধরনের কনটেন্টের উল্লেখ ২ লাখ ৭৯ হাজারেরও বেশি হয়েছে ও এর বিস্তার ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ বেড়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই এ ধরনের পোস্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সিএসওএইচ জানায়, অনেক ব্যবহারকারী মুসলিমদের উদ্দেশে ‘অমানবিক ভাষা’ ব্যবহার করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের ভাষা অতীতে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে চরম সহিংসতার আগে প্রায়ই দেখা গেছে ও তা সহিংসতাকে উসকে দিয়েছে।

এ ধরনের ৩০টি পোস্ট চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১১টি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তবে সোমবার (৯ মার্চ) পর্যন্ত ১৯টি পোস্ট এখনো প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছিল।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সংস্থা মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (এমআরএফএফ) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তারা অভিযোগ পেয়েছে যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু কমান্ডার সৈন্যদের বলেছেন- ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ ‘ঈশ্বরের পরিকল্পনারই অংশ’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনাসদস্যরা ২০০টিরও বেশি অভিযোগ করেছেন, যেখানে কমান্ডাররা যুদ্ধকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার মন্তব্যও এ ধরনের বক্তব্যকে আরও উসকে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২ মার্চ দেওয়া এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান সম্পর্কে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন, যা ইসলামবিদ্বেষী বলে সমালোচিত হয়। তিনি বলেন, ইরানের মতো উন্মাদ শাসনব্যবস্থা, যারা ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ইসলামপন্থী বিভ্রমে আচ্ছন্ন, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। এটি সাধারণ বুদ্ধির বিষয়। অনেকেই এটি বলেছেন, কিন্তু বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে সাহস লাগে, আর আমাদের প্রেসিডেন্টের সেই সাহস আছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।