ভারত ও ইইউয়ের ঐতিহাসিক চুক্তি, শুল্ক কমছে গাড়ি-বস্ত্রপণ্যে
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) উভয় পক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনিশ্চিত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইইউ জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রপ্তানি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী সাত বছরে ইইউ ৯৯.৫ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। ভারতীয় সামুদ্রিক পণ্য, চামড়া, বস্ত্র, রাসায়নিক দ্রব্য, রাবার, ধাতু এবং স্বর্ণালংকারে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে একটি বড় চুক্তি সই হয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ একে ‘সবচেয়ে বড় চুক্তির বলে অভিহিত করছে।”
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের লাখো মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বাজার আরও উন্মুক্ত হবে। ইইউ-এর বিবৃতি অনুযায়ী, বর্তমানে গাড়ির ওপর ১১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক থাকলেও তা পাঁচ বছরে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হবে। এতে ভক্সওয়াগেন, রেনল্ট, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউর মতো ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হবে।
এছাড়া, ভারত আমদানি করা ওয়াইনের ওপর শুল্ক ১৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৭৫ শতাংশ করবে, যা ধাপে ধাপে ২০ শতাংশে নামানো হবে। মদের ওপর শুল্ক কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হবে।
চুক্তির আওতায় যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রাসায়নিক দ্রব্য, লোহা ও ইস্পাতসহ নানা ইউরোপীয় পণ্যের ওপরও শুল্ক কমানো হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, আজ ইউরোপ ও ভারত ইতিহাস তৈরি করেছে। এটি কেবল শুরু।
২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরে ভারত ও ইইউ-এর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬.৫ বিলিয়ন ডলার।
ভারত সরকারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইনি যাচাই শেষে আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি সই হবে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম