সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করলো চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করলো চীন/ ছবি: এএফপি

চীন চলতি সপ্তাহের সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে তাদের সামরিক ও বিমান প্রযুক্তির সক্ষমতা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বেইজিং অঞ্চলটিতে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা আরও জোরদার করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিখুঁত অভিযানে অপসারণ এবং ইরানের চারপাশে বড় নৌবহর মোতায়েনের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে কিছু মিত্র দেশের সমালোচনা করেছেন এবং তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন। এতে চীনের জন্য কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চীনের যুদ্ধবিমান ও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত না হলেও, এয়ারশোতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবার আগের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী ও দৃশ্যমান দেখা গেছে।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বিমানবাহিনীর অ্যারোবেটিক দল প্রথমবারের মতো চেংদু জে-১০সি যুদ্ধবিমান দিয়ে প্রদর্শনী উড়ান করে আলোচনায় আসে। এই বিমানের রপ্তানি সংস্করণ জে-১০সিই ২০২৫ সালে বিশেষভাবে পরিচিতি পায়, যখন পাকিস্তান এটি ব্যবহার করে ভারতের ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল বলে দাবি করা হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দলটি আকাশে জ্বালানি ভরে সরাসরি সিঙ্গাপুরে উড়ে আসে, যা তাদের দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।

রয়্যাল অ্যারোনটিক্যাল সোসাইটির ‘এয়ারোস্পেস’ ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক টিম রবিনসন বলেন, এটি মূলত একটি বার্তা—চীনের শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা বাড়ছে। আধুনিক বিমানবাহিনীর জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সক্ষমতা।

সেখানে এভিআইসি নির্মিত জে-৩৫এ স্টেলথ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমানের বড় মডেল প্রদর্শিত হয়। এই বিমান সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য না থাকলেও এটি ২০২৪ সালে প্রথম দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এটির মাধ্যমে এশিয়ার ক্রেতাদের উদ্দেশে চীন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—যারা যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ কিনতে পারে না বা কিনতে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে, তাদের জন্য এটি একটি বিকল্প।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা চীনের সামরিক ও বিমান প্রযুক্তির স্টলগুলোতে ভিড় করেন, যা অঞ্চলটিতে বেইজিংয়ের প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

এই শক্তি প্রদর্শন এমন সময়ে হয়েছে, যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন। ট্রাম্পের নেতৃত্বে ওয়াশিংটনের তুলনামূলকভাবে একঘরে নীতির কারণে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ত্র বাণিজ্যে হঠাৎ বড় পরিবর্তন না এলেও বর্তমান পরিস্থিতি নতুন শক্তির রাজনীতি এবং সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চীন-বিষয়ক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ব্র্যাডলি পেরেট বলেন, যদি কিছু দেশ আমেরিকান অস্ত্র কেনায় আস্থা হারায়, তাহলে চীন সেখানে সুযোগ দেখতে পারে। তবে অধিকাংশ মার্কিন ক্রেতা বিকল্প হিসেবে ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপানের দিকেই তাকাবে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।