চীনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগ, চুক্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র
চীন ২০২০ সালে গোপনে পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প প্রশাসন চীন ও রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তৃত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তি নিউ স্টার্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন পার হতে না হতেই এমন আহ্বান জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক শক্তির অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর আর কোনো আইনি সীমা থাকলো না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, তারা আর নিউ স্টার্ট চুক্তির সীমাবদ্ধতা মানবেন না। চুক্তি নবায়ন না করে মস্কো ও বেইজিং থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় নতুন একটি চুক্তির প্রয়োজন বলে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। গত বছর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষাও পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত একটি বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট থমাস ডি ন্যান্নো বলেন, আজ আমি প্রকাশ করতে পারি যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিশ্চিত যে চীন পারমাণবিক বিস্ফোরণমূলক পরীক্ষা চালিয়েছে, যার মধ্যে শত শত টন ক্ষমতাসম্পন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতিও ছিল।
তিনি দাবি করেন, ২০২০ সালের ২২ জুন চীন এমন একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ২০২০ সালের ওই পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য সম্প্রতি গোপনীয়তা মুক্ত করা হয়েছে।
ডি ন্যান্নো অভিযোগ করেন, চীনের সামরিক বাহিনী পারমাণবিক বিস্ফোরণ আড়াল করার চেষ্টা করেছে কারণ তারা জানত এ ধরনের পরীক্ষা আইনের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে।
তার ভাষায়, চীন ‘ডিকাপলিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যাতে ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের কার্যক্রম বিশ্ববাসীর নজর এড়িয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিকাপলিংয়ের ক্ষেত্রে বড় গুহা খনন করে বিস্ফোরণের ভূকম্পন কমিয়ে দেওয়া হয় যাতে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়।
তবে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নজরদারিতে নিয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০২০ সালের ২২ জুন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনা নজরদারিতে ধরা পড়েনি।
সূত্র: সিএনএন
কে এম