গাজা শান্তি পরিকল্পনা

চলতি মাসে প্রথম বৈঠকে বসবে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩৩ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা উপত্যকার শাসনব্যবস্থা তদারকির দায়িত্ব নিয়েছে ‘বোর্ড অব পিস’। চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে তাদের প্রথম বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং বোর্ডের সদস্যভুক্ত চারটি দেশের কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়। তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।

বৈঠকটি একই সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অঞ্চলটির পুনর্গঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান হিসেবেও কাজ করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে নির্ধারিত বৈঠকের পরের দিন এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

যদি নেতানিয়াহু ‘বোর্ড অব পিস’-এর বৈঠকে অংশ নেন তবে এটি হবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর আরব ও মুসলিম নেতাদের সঙ্গে তার প্রথম কোনো বৈঠক।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

সমালোচকরা ট্রাম্পের এই শান্তি বোর্ডকে একটি ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘকে সরিয়ে নিজের পছন্দমতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তুলতে চান।

গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা বোর্ডের সদস্য হিসেবে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এছাড়া ইরাক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সমালোচিত যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এ বোর্ডে রয়েছেন।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বোর্ড ভবিষ্যতে শুধু গাজা নয় বরং বিশ্বের অন্যান্য সংঘাত নিরসনেও ভূমিকা রাখতে পারবে। জাতিসংঘের মতো প্রচলিত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কাঠামোর অধীনে এ বোর্ড কাজ করবে।

ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বিশেষ করে তার জামাতা জ্যারেড কুশনার গাজাকে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি উদ্ভাবন, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে দেখার কথা বলেছেন।

তবে সমালোচকদের মতে, এতে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অবস্থান, আইনগত অধিকার এবং ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহিতা প্রায় উপেক্ষিত থেকে গেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।