বাবার বোন ম্যারো দানে বিরল ক্যানসার জয়ের স্বপ্ন দেখছে এক বছরের শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৩৬ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: এএফপি (ফাইল)

বিরল ও মারাত্মক ধরনের ব্ল্যাড ক্যানসারে আক্রান্ত এক বছরের শিশু সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে জটিল অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের (বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট) পর সুস্থ হয়ে উঠছে। চিকিৎসকদের আশা, শিগগিরই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

শিশুটির নাম আরহাম। মাত্র চার থেকে পাঁচ মাস বয়সে তার শরীরে ধরা পড়ে ইনফ্যান্টাইল বি-সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া (বি-এএলএল), যা উচ্চঝুঁকির একটি ব্ল্যাড ক্যানসার এবং একটি গুরুতর জিনগত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত।

পরিবারে উপযুক্ত মিল থাকা কোনো ভাই-বোন দাতা না থাকায় পরীক্ষায় দেখা যায়, মা ও বাবা দুজনেই অর্ধেক মিলযুক্ত দাতা। সবদিক বিবেচনা করে চিকিৎসকরা বাবাকেই দাতা হিসেবে নির্বাচন করেন। প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে এই প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়।

চিকিৎসকদের ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণে আরহামের অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে এবং সে ভালোভাবেই সেরে উঠছে।

ইয়াস ক্লিনিকের শিশু রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ ডা. মানসি সচদেব বলেন, নানা জটিলতার মধ্যেও তার সুস্থ হয়ে ওঠা প্রমাণ করে আধুনিক চিকিৎসা, সতর্কতা ও অধ্যবসায়ের গুরুত্ব। পাশাপাশি তার বাবা-মায়ের অসাধারণ মানসিক শক্তিও প্রশংসনীয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসাকালীন সময়জুড়ে বাবা-মায়ের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কারণে একসঙ্গে একজন অভিভাবকই শিশুর পাশে থাকতে পারতেন। এ সময় মা সবসময় আরহামের পাশে ছিলেন, আর বাবা একদিকে দাতা হিসেবে, অন্যদিকে পরিবারের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ইয়াস ক্লিনিকের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাইসুন আল কারাম বলেন, এই সফল অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন আমাদের চিকিৎসা দলের দক্ষতা ও জীবনরক্ষাকারী উন্নত সেবা দেওয়ার অঙ্গীকারের প্রমাণ। এটি শিশুদের জটিল প্রতিস্থাপন সেবা সম্প্রসারণে একটি বড় মাইলফলক।

চিকিৎসকরা জানান, এ ধরনের প্রতিস্থাপনের পর সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সময় লাগে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত আরহামের অগ্রগতি পরিবার ও চিকিৎসকদের জন্য আশাব্যঞ্জক।

সূত্র: খালিজ টাইমস

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।