নেপালে উৎসব মুখর পরিবেশে গাঁজা সেবন
নেপালের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব শিবরাত্রি উপলক্ষে রাজধানী কাঠমান্ডুতে গাঁজার ধোঁয়ায় মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হাজার হাজার ভক্ত ও সাধু-সন্ন্যাসী প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন করেন।
এদিন কাঠমান্ডুর পশুপতিনাথ মন্দিরে প্রার্থনার জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এই মন্দির হিন্দুদের প্রধান তীর্থস্থানগুলোর একটি এবং শিবরাত্রি উপলক্ষে এখানে দেশ-বিদেশ থেকে ভক্তরা সমবেত হন। প্রতিবেশী ভারত থেকেও অনেক ভক্ত উৎসবে অংশ নিতে আসেন।
নেপালে সাধারণত গাঁজা নিষিদ্ধ। তবে শিবরাত্রি উপলক্ষে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। হিন্দু ধর্মে শিবের সঙ্গে গাঁজা সেবনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তাকে অনেক সময় গাঁজা সেবনরত অবস্থায় চিত্রিত করা হয়।
উৎসবের সময় ভক্তরা ভজন-গান ও নাচের মাধ্যমে শিবের আরাধনা করেন। পশুপতিনাথ মন্দিরের পাশের বাগমতী নদীর ওপারে বনকালী পাহাড় এলাকায় সাধুদের গাঁজা সেবন করতে দেখা যায়। অনেক সাধারণ মানুষও এতে অংশ নেন।
আইন অনুযায়ী, নেপালে গাঁজা সেবনের শাস্তি সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড। পাচারের ক্ষেত্রে শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ ১০ বছর।
১৯৬০-এর দশকে হিপ্পিদের আগমনের কারণে নেপাল গাঁজার জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে। সে সময় দোকান ও চা-ঘরে বৈধভাবে গাঁজা বিক্রি হতো। তবে ১৯৭৬ সালে এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাঁজা চাষ ও ব্যবহারের বৈধতা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন ও সংসদে আলোচনা হলেও এখনো তেমন অগ্রগতি হয়নি।
সূত্র: ইউএনবি
এমএসএম