‘ডার্ট ফ্রগ’ বিষ কী? পুতিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় নাভালিনকে হত্যা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫৮ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাগো নিউজ

রাশিয়ার বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনি ছিলেন একাধারে আইনজীবী, ব্লগার, রাজনৈতিক কর্মী। ১৯৭৬ সালের ৪ জুন মস্কোর পশ্চিমাঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন নাভালিন। শিক্ষা জীবনে তিনি রাশিয়ার আরইউডিএন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে স্নাতক এবং পরে অর্থনীতিতে ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৪৭ বছর বয়সে রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের এক নির্জন কারাগারে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু ঘোষণার পর তার স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া রুশ পুতিনকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

নাভালিনের মৃত্যুর পর সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস—এই পাঁচ ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ করেছে। তবে এ অভিযোগকে পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আবারও নাভালনির মৃত্যুর দায় অস্বীকার করেছে রুশ সরকার।

‘ডার্ট ফ্রগ’ বিষ কী? কীভাবে কাজ করে?

বিজ্ঞানের ভাষায় ‘এপিবাটিডিন’ একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন। দক্ষিণ আমেরিকার রেইনফরেস্টে ছোট ও উজ্জ্বল রঙের ডার্ট ফ্রগ পাওয়া যায় যাদের শরীর থেকে নিঃসৃত হয় ‘এপিবাটিডিন’। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, নাভালনির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদার্থটি এপিবাটিনসহ ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হতে পারে।

এই টক্সিন নার্ভ এজেন্টের মতো কাজ করে— শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, হৃৎস্পন্দন কমে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

নাভালিনকে হত্যার কারণ কী?

২০০৮ সালের পর থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচিত নাম হয়ে ওঠে আলেক্সেই নাভালিন। তিনি ২০০৮ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি-গ্যাজপ্রম ও রোসনেফট-নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। দুর্নীতি রোধে এর পর ২০১১ সালে (ফাউন্ডিং ফর ফাইটিং করাপশন) গঠন করেন।

২০১৩ সালে মস্কো মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় ২৭ শতাংশ ভোট পান যা রাশিয়ার রাজনীতি তখনকার প্রেক্ষাপটে বিরোধীদের জন্য বড় সাফল্য।

২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের বিরুদ্ধে (হি ইজ নট ডিমন টু ইউ) শিরোনামে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

এর এক বছর পর ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলেও পূর্বের একটি মামলার রায়ের কারণে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন ছিল নাভালিনের প্রতি। তাদের সমর্থনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছিল আলেক্সেই নাভালিন।

নাভালিনকে গ্রেফতারের পর তার সংগঠন ও সহযোগীদের ওপর বারবার তল্লাশি, জরিমানা ও মামলা-হামলার পাশাপাশি ২০২১ সালে এফবিকে-কে ‘চরমপন্থী সংগঠন’ ঘোষণা করে রাশিয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়।

২০২০ সালে একবার নার্ভ এজেন্টে বিষপ্রয়োগের শিকার হন নাভালিন। তখন বিষ প্রয়োগের জন্য তিনি রুশ প্রসাশনকে দায়ী করেছিলেন। চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে তিনি রাশিয়ায় ফিরে গেলে আবার গ্রেফতার হন এবং জীবনের শেষ তিন বছর আর্কটিক কারাগারে কাটান।

ইউরোপীয় দেশগুলোর দাবি কী?

পাঁচ দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নাভালনির দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণে ‘নির্দিষ্টভাবে’ এপিবাটিডিন নামের এক ধরনের নিউরোটক্সিনের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। এ টক্সিন দক্ষিণ আমেরিকার বিষাক্ত ডার্ট ব্যাঙে পাওয়া যায় এবং রাশিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না।

যুক্তরাজ্য জানায়, এই বিষপ্রয়োগ ‘উদ্বেগজনক আচরণের ধারাবাহিকতা’ নির্দেশ করে। ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যে রুশ দ্বৈত গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপালকে নোভিচক নার্ভ এজেন্ট দিয়ে বিষপ্রয়োগের ঘটনায় জনসমক্ষে তদন্ত চালানো হয়েছিল। গত বছর সেই তদন্তে উপসংহারে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এছাড়া, এ ঘটনাকে রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ কনভেনশন এবং জৈব ও টক্সিন অস্ত্র নিষেধ কনভেনশনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে রাশিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।