ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ভারতের অরুণাচল-নাগাল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:০১ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: দ্য স্টেটসম্যান

টানা পাঁচ দিন ধরে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ভারতের অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড। ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করছে ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী (আইএএফ)। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে অবিরাম পানি ঢালার পাশাপাশি স্থলভাগেও বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।

অরুণাচলের আনজাও জেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ওয়ালং এলাকা। এই এলাকায় ১৩ ফেব্রুয়ারি আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়জুড়ে ছড়িয়ে পড়া আগুনে হেলিকপ্টার থেকে পানি ফেলা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যম এক্স -এ দেওয়া এক বার্তায় আইএএফ জানিয়েছে, তাদের হেলিকপ্টার দুটি ফ্রন্টে একযোগে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। অরুণাচলের ওয়ালং এলাকায় মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ লিটার পানি নিক্ষেপ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

একই সময়ে নাগাল্যান্ডের জুকৌ ভ্যালিতে এমআই-১৭ ভি৫ হেলিকপ্টার ডিমাপুরের পদুমপোখরি লেক থেকে পানি সংগ্রহ করে কাছাকাছি এলাকায় আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। খাড়া ঢাল, কম দৃশ্যমানতা ও দমকা বাতাসের মধ্যেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে শনিবার আইএএফ জানিয়েছিল, লোহিত উপত্যকায় ৯,৫০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালানো হচ্ছে। একাধিক উড্ডয়নে ১২,০০০ লিটারের বেশি পানি নিক্ষেপ করে উপত্যকার সংকীর্ণ পর্বতশ্রেণির আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দমকা বাতাসের মধ্যেও অভিযান চলছে।

গুয়াহাটি-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানান, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং পাহাড়ি উপজাতিদের ঐতিহ্যবাহী ‘ঝুম চাষ’ (জমি পোড়ানোর পদ্ধতি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বনাগ্নির প্রধান কারণগুলোর একটি।

তিনি বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে সেনা ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনবল, ভারী যন্ত্রপাতি, বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং হেলিকপ্টারের নজরদারি ও পানি নিক্ষেপ সহায়তায় ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালানো হচ্ছে। অত্যন্ত দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেনা ও বিমানবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টা আগুনের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ি এলাকায় যেখানে স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন, সেখানে আকাশপথে চালানো প্রচেষ্টা অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

ভারতের এসব অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় সম্ভাব্য নতুন আগুনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।