আর্টেমিস ২: প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকায় চাঁদের মিশন স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:০১ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নাসার আর্টেমিস-২ স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযান/ ছবি: এএফপি

৫০ বছরের বেশি সময় পর চাঁদের প্রথম ক্রূড ফ্লাইবি মিশন আর্টেমিস-২ সাময়িক স্থগিত করেছে নাসা। আগামী মার্চ মাসে আর্টেমিস-২ রকেট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে না। দীর্ঘ স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটে হেলিয়ামের প্রবাহে সমস্যা ধরা পড়ায় আগামী মার্চ মাসে নাসার রকেট উৎক্ষেপণ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হয়েছে।

শনিবার(২১ ফেব্রুয়ারি) তারিখে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় নাসার প্রধান জারেড আইস্যাকম্যান এমন তথ্য জানিয়েছেন।

আইস্যাকম্যান এক্স-এ লিখেছে, আমি জানি এই খবরের কারণে মানুষ হতাশ হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি হতাশা অনুভব করছে নাসার দল, যারা এ মহান অভিযানের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৬০-এর দশকে নাসা যখন অনেকের জন্য অসম্ভব মনে হওয়া চাঁদ অভিযানের সফলতা অর্জন করেছিল তখনও বহু বাধা ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

এসএলএস রকেট এবং অরিয়ন স্পেসক্রাফটকে কেনেডি স্পেস সেন্টারের ভেহিকেল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিংয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখানে রকেটের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনীয় মেরামত করা হবে। এই সম্পর্কে সম্পূর্ণ ব্রিফিং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইস্যাকম্যান।

আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত প্রত্যাশিত আর্টেমিস-২ মিশন প্রায় ১০ দিন স্থায়ী হবে এবং এতে তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডিয়ান নভোচারী চাঁদের চারপাশে পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানানো হয়েছিল।

নাসার লক্ষ্য চাঁদকে ভবিষ্যতের মঙ্গল মিশনের প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার করা। ২০২৫ সালের শেষ দিকে নাসা ঘোষণা করেছিল, আর্টেমিস-২ মিশন চলতি ফেব্রুয়ারিতে মাসে হবে। জানা গেছে, চীনের আগে চাঁদে পৌঁছাতে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা চিন্তা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

বহুবার বিলম্ব এবং দুইবারের ব্যর্থ উৎক্ষেপণের পর আর্টেমিস-১ মিশন ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে সফল উৎক্ষেপন সম্পন্ন হয়। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে তরল হাইড্রোজেন লিকসহ প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে আর্টেমিস ২-এর ওয়েট ড্রেস রিহার্সেল সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল, যা শেষপর্যন্ত সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে।

রিহার্সেলটি কেপ কানাভেরালে সম্পূর্ণ সিস্টেম ট্যাঙ্ক এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষা নিয়ে করা হয়েছিল। সেখানে ইঞ্জিনিয়াররা বাস্তব উৎক্ষেপণের জন্য প্রয়োজনীয় সব কার্য প্রক্রিয়া অনুশীলন করেছেন।

নাসা আশা করছে, চাঁদের সফল মিশনের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের মঙ্গল মিশনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।